প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার লড়াইয়ের আগে বড়সড় ধাক্কা। খোদ পুলিশকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হলেন বর্ধমান পুরসভার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের দাপুটে তৃণমূল কাউন্সিলর নাড়ুগোপাল ভকত। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে পুলিশের এই ঝটিকা অভিযানে জেলা রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
বর্ধমান শহরের জনবহুল কার্জন গেট চত্বরে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ ও সিগন্যাল কর্মীদের সঙ্গে তর্কে জড়ান এই শাসক নেতা। অভিযোগ, তিনি মেজাজ হারিয়ে কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিকদের অত্যন্ত কুরুচিকর ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং তাদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। মুহূর্তের মধ্যে সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র, যা নজরে আসে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের।
নির্বাচন চলাকালীন পুলিশের মনোবল ভাঙার এই প্রচেষ্টাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখে কমিশন। সূত্রের খবর, কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশের পরেই বর্ধমান থানার পুলিশ তৎপর হয়। এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্ত কাউন্সিলরকে। তার বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং সরকারি কর্মীকে ভয় দেখানোর মতো একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
প্রভাবশালী এই নেতাকে জালে তুলে প্রশাসন বার্তা দিয়েছে যে, নির্বাচনের ময়দানে কোনো দাদাগিরি বরদাস্ত করা হবে না। এই ঘটনায় অস্বস্তিতে থাকলেও তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দল আইনের ওপর আস্থাশীল এবং কোনো ব্যক্তিগত বিতর্কিত আচরণের দায় দল নেবে না।
বিধানসভা নির্বাচনের এই হাইভোল্টেজ সময়ে এই গ্রেফতারি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাজনৈতিক মহলের মতে, সাধারণ ভোটারদের মনে আত্মবিশ্বাস জোগাতে এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা প্রমাণ করতে এই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে কমিশন। বিরোধী শিবির ইতিমধ্যেই এই ঘটনাকে ইস্যু করে ময়দানে নেমেছে। নির্বাচনের মুখে একজন জনপ্রিয় কাউন্সিলরের গ্রেফতারি স্থানীয় ভোট সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।
ক্ষমতার দম্ভ যে শেষ পর্যন্ত আইনের ঊর্ধ্বে নয়, নাড়ুগোপাল ভকতের এই গ্রেফতারি সেই বার্তাই দিচ্ছে। এখন জনতা জনার্দন ব্যালট বাক্সে এই ঘটনার কী প্রতিফলন ঘটায়, তার উত্তর মিলবে ফলপ্রকাশের দিন।