প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তন হতেই কি রাজনৈতিক অবস্থান বদলাতে শুরু করলেন বিদায়ী শাসকদলের নেতারা? হুগলির তৃণমূল সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে এখন এমনই তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। গতকাল পর্যন্ত যিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থেকে রাজনৈতিক লড়াই করেছেন, আজ রাজ্যে বিজেপি সরকার আসতেই তাঁর মুখে ‘শুভেন্দু-বন্দনা’ শোনা যাচ্ছে। রচনার এই অবস্থান বদলকে ‘চরম রাজনৈতিক সুবিধাবাদ’ আখ্যা দিয়ে খোদ গেরুয়া শিবিরের অন্দরেই আদি কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
আজ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, “দেড় মাসে বিজেপি যা কাজ করে দেখিয়েছে, তাতে তিনি আশাবাদী।” এর প্রেক্ষিতে বিজেপির আদি কর্মীরা প্রশ্ন তুলছেন, মাত্র দেড় মাসেই রচনার মোহভঙ্গ হলো? বিগত ১৫ বছর ধরে যখন রাজ্যে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতি ও অপশাসনের অভিযোগ উঠছিল, তখন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন নীরব ছিলেন? তখন কেন তিনি দলের অভ্যন্তরে বা প্রকাশ্যে কোনো প্রশ্ন তোলেননি? আজ তৃণমূল ক্ষমতাচ্যুত হতেই বিজেপির উন্নয়ন তাঁর নজর কাড়ল কেন? আজ রচনার মুখে শোনা গেছে, “বিজেপি সরকারই বাংলাকে নম্বর ওয়ান করবে।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্যের মাধ্যমে রচনা পরোক্ষভাবে তাঁর নিজের প্রাক্তন দলের ব্যর্থতাই স্বীকার করে নিলেন। তৃণমূলের টিকিটে জিতে লোকসভায় যাওয়ার পর, আজ বিরোধী আসনে বসতেই কি তবে নিজের প্রাক্তন দলের আসল রূপ বুঝতে পারলেন তিনি? আজ রচনার সবচেয়ে বড় চমক— “আমরা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে সমর্থন করছি, পাশে আছি।” বিজেপির নীচুতলার কর্মীদের একাংশের স্পষ্ট বক্তব্য, যে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে তৃণমূলের প্রথম সারির নেত্রী হিসেবে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় অতীতে একাধিকবার সরব হয়েছেন, আজ কোন সমীকরণে তাঁর পাশে দাঁড়ানোর কথা বলছেন? যে কর্মীরা বহু লড়াই ও ত্যাগের বিনিময়ে রাজ্যে বিজেপি সরকার আনলেন, শুভেন্দু বাবুকে মুখ্যমন্ত্রী করলেন, সেখানে এই ধরনের দলবদলু নেতাদের বাড়তি গুরুত্ব দিলে আদি কর্মীদের অপমান করা হবে। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল ভেঙে নতুন প্ল্যাটফর্ম (NCPI) গড়ার তোড়জোড় চলছে, অন্যদিকে বলা হচ্ছে “দিদির প্রতি আজীবন সম্মান থাকবে”— এই অবস্থানকে রাজনৈতিক দ্বিচারিতা বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
বিজেপি ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, রাজনৈতিক অস্তিত্ব টেকাতেই এখন ‘ভারতের জাতীয়তাবাদী নাগরিক পার্টি’ (NCPI) নামক একটি মঞ্চ তৈরি করে কেন্দ্রের ও রাজ্যের ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতৃত্বের নেক নজরে আসার চেষ্টা চলছে। বিজেপির কট্টর সমর্থকদের একাংশের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, এই নেতাদের কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক আদর্শ নেই। এরা ক্ষমতার সমীকরণ দেখে অবস্থান বদল করতে অভ্যস্ত। আজ বিজেপি ক্ষমতায় আছে বলে এরা শুভেন্দু অধিকারীর গুণগান গাইছেন, কাল পরিস্থিতি বদলালে আবার অন্য পথ দেখতে পারেন। এই ধরনের নেতাদের দলে কোনোভাবেই বাড়তি প্রাধান্য দেওয়া উচিত নয়, কারণ এতে বাংলায় বিজেপির নিজস্ব স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।