প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আজ এক অন্য ধারার রাজনীতির সাক্ষী থাকল তিলোত্তমা। কোনো বিলাসবহুল এসি ঘরের গদি-আঁকড়ানো তাত্ত্বিক ভাষণ নয়, সরাসরি মাটির মানুষের মাঝখানে ঢুকে পড়ার এক নজিরবিহীন দৃশ্য। আজ সকালে দমদম বিমানবন্দর সংলগ্ন ‘জয় হিন্দ’ মেট্রো স্টেশনে যাঁরা হাজির ছিলেন, তাঁদের চোখের পলক পড়ছিল না! কেন? খোদ দেশের রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব কোনো লটবহর ছাড়া, কোনো রাজকীয় প্রোটোকলের তোয়াক্কা না করে সোজা ঢুকে পড়লেন সাধারণ মেট্রোর কামরায়! কাছে গিয়ে যাঁরা দেখলেন, তাঁরা তো থ! ভাবলেন— এও কি সম্ভব? আমাদের এই রাজ্যে যেখানে একটা পঞ্চায়েতের মেম্বার জিতলেই চারটে সাইরেন বাজানো গাড়ি আর দশটা বাউন্সার নিয়ে ঘোরেন, সেখানে নরেন্দ্র মোদীর ক্যাবিনেটের একজন হাই-প্রোফাইল মন্ত্রী, যিনি আবার পেশায় প্রাক্তন আইএএস অফিসার, তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মেট্রো চড়ছেন? রাজনৈতিক মহলের মতে, তথাকথিত ভিআইপি সংস্কৃতির অহংকারকে এক ঝটকায় চূর্ণ করে দিলেন তিনি। মোদী সরকারের ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ স্লোগানটি যে কেবল খাতায়-কলমে নয়, তা আজ প্র্যাকটিক্যালি প্রমাণ করলেন রেলমন্ত্রী।

মন্ত্রীমশাই শুধু মেট্রোয় উঠলেনই না, সাধারণ যাত্রীদের পাশে বসে দিব্যি গল্প জুড়ে দিলেন। মেট্রো চড়তে কেমন লাগছে? সময় মতো ট্রেন পাচ্ছেন তো? পরিষেবা নিয়ে কোনো ক্ষোভ বা পরামর্শ আছে কি না— একেবারে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জেনে নিলেন। কোনো আমলার ফাইল-চাপা রিপোর্টের ওপর ভরসা না করে, খোদ ‘পাবলিকের’ পালস মেপে নিলেন স্পটেই। চশমার ফাঁক দিয়ে মন্ত্রীর সেই তীক্ষ্ণ চাউনি আর সাধারণ মানুষের মুখে চওড়া হাসি— এই ছবিটাই তো বুঝিয়ে দেয় আসল কাজের মানসিকতা কাকে বলে।শুধু জনসংযোগ? না মশাই, বড় চমকও আছে! বিরোধী শিবির অনেকেই হয়তো এটিকে ‘ফটো সেশন’ বলে কটাক্ষ করার চেষ্টা করবেন, কিন্তু তাঁদের সেই জল্পনায় জল ঢেলে দমদম বিমানবন্দরেই রেলমন্ত্রী এক দুর্দান্ত মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছেন। জানিয়ে দিলেন, আগামী ৪-৫ বছরের মধ্যে কলকাতা মেট্রোর ভোল বদলে যাবে। একটা-দুটো নয়, এক্কেবারে ৬০টি নিউ জেনারেশন ট্রেন আসছে তিলোত্তমার বুকে! অর্থাৎ, শুধু ঘুরে বেড়ানো নয়, শহরবাসীকে আধুনিকতার চরম শিখরে পৌঁছে দেওয়ার ব্লু-প্রিন্ট পকেটে নিয়েই তিনি ময়দানে নেমেছেন।

মেট্রো সফর তো ট্রেলার ছিল, আসল চমক তখনও বাকি ছিল! মেট্রো থেকে নেমে বাবুদের মতো দামি বিদেশি গাড়িতে না চেপে, রেলমন্ত্রী সোজা উঠে পড়লেন কলকাতার ঐতিহ্যবাহী তিন চাকার অটোতে! খোদ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অটোয় চড়ে জনসংযোগ সারছেন— এই দৃশ্য হয়তো অনেককেই কিছুটা অস্বস্তিতেই ফেলবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদলের বিরুদ্ধে যখন একের পর এক দুর্নীতির ভুরিভুরি অভিযোগ উঠছে, তখন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই সততা আর সাধারণ মানুষের কাছাকাছি পৌঁছানোর সাহসিকতা বিরোধীদের নৈতিকভাবে অনেকটাই ব্যাকফুটে ঠেলে দিল।

মেট্রো আর অটোর সফর শেষ করে মন্ত্রী এখন সোজা পৌঁছে গেছেন নবান্নে। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক চলছে। রাজ্যের ঝুলিতে থাকা ৬১টি মেগা রেল প্রকল্পের ভবিষ্যৎ ঠিক হচ্ছে এই টেবিলেই। চিংড়িঘাটার মতো দীর্ঘদিনের জট আইনি জাঁতাকল থেকে বের করে জোকা-দমদম বা অরেঞ্জ লাইনকে কীভাবে গতি দেওয়া যায়— তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। ১০২টি অমৃত ভারত স্টেশনের আধুনিকীকরণ আর ৫৩৮টি আন্ডারপাস তৈরির যে মহাপরিকল্পনা মোদী সরকার নিয়েছে, তার সুফল বাংলা কবে পাবে— তার জবাব মিলবে এই বৈঠক থেকেই। তাই বলাই যায়, যারা এতদিন ‘দিল্লির বঞ্চনা’ বলে রাজনৈতিক মাইলেজ পাওয়ার চেষ্টা করতেন, তাঁদের জন্য আজকের এই দিনটি একটি বড় বার্তা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা কলকাতায় এসে শুধু ফাইল ওড়াচ্ছেন না, তাঁরা মাটিতে নেমে সাধারণ মানুষের পালস বুঝছেন। একেই বলে কাজের সরকার, একেই বলে প্রকৃত জননেতা।