প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-অবশেষে কাটল দীর্ঘ এক দশকের ঘোর অন্ধকার। ঘুচল দিল্লির সঙ্গে রাজ্যের সেই কুখ্যাত ‘যুদ্ধ যুদ্ধ’ খেলাই। শনিবার নবান্ন সভাঘরে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এবং রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যেকার হাই-প্রোফাইল বৈঠক এক ঐতিহাসিক মোড় এনে দিল বাংলার রেল পরিকাঠামোয়। বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, “রেলমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে”। এই একটি লাইনেই কার্যত পরিষ্কার হয়ে গেল যে, রাজধর্ম পালনে অবহেলা আর দিল্লির সঙ্গে খামোখা ঝগড়া বাধিয়ে রাখার যে আত্মঘাতী রাজনীতি এতদিন চলেছে, তার দিন এবার ফুরিয়েছে। যাঁরা এতদিন ধরে “কেন্দ্র বাংলাকে বঞ্চনা করছে” বলে গলার শিরা ফুলিয়ে চিৎকার করতেন, আজকের এই বৈঠক তাঁদের গালে এক সপাটে চড়। যে রেল প্রকল্পগুলো জমি জটের লাল ফিতের ফাঁসে আটকে ধুঁকছিল, এক বৈঠকেই তার সিংহভাগ জট সাফ করে দেখালেন মুখ্যমন্ত্রী।
কেন এতদিন এই কাজগুলো হয়নি? উত্তরটা লুকিয়ে আছে অতীতের সেই অহংকারী ও জেদি মানসিকতার মধ্যে। পূর্বতন জমানায় কেন্দ্র সরকারের সঙ্গে পাঙ্গা নেওয়ার যে একগুঁয়ে মনোভাব দেখানো হয়েছিল, তার খেসারত দিতে হয়েছে সাধারণ নিত্যযাত্রীদের। রাজ্যের তৎকালীন সরকার শুধু নিজের রাজনৈতিক আখের গোছাতে কেন্দ্রের প্রতি একটা চিরস্থায়ী “যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব” বজায় রেখেছিল। ফলে ফাইল আটকেছে, বাজেট ফিরে গেছে, আর উন্নয়ন থমকে দাঁড়িয়েছে প্ল্যাটফর্মের বাইরে। কিন্তু সময় বদলেছে, বদলেছে শাসনও। এখন নবান্নের ১৪ তলায় বসে ইটের বদলে পাটকেল ছোঁড়ার সস্তা রাজনীতি হয় না, বরং ফাইল খুলে ফাইল পাস করানোর কাজ হয়।
শনিবারের এই মেগা বৈঠক প্রমাণ করে দিল, সদিচ্ছা থাকলে এবং রাজ্যের মানুষের স্বার্থকে প্রাধান্য দিলে দিল্লির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কীভাবে কাজ করা যায়। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে এই মুখোমুখি আলোচনার পর রাজ্যের সমস্ত আটকে থাকা লাইন ও মেট্রো প্রকল্পগুলো এবার বুলেট ট্রেনের গতিতে এগোবে। ভাঙা রেকর্ডের মতো কেন্দ্রের দিকে আঙুল তোলার জমানা অতীত, এবার শুধুই ট্র্যাকে ফেরার পালা। বাংলার মানুষ বুঝে গেছে— সংঘাত নয়, সমন্বয়ই পারে উন্নয়ন এনে দিতে।