প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-টেবিলের ওপরে ফাইল সাজিয়ে এসি ঘরে বসে লম্বা চওড়া ভাষণ দেওয়ার দিন শেষ। এখন কথা কম, কাজ বেশি। আর সেই কাজের প্রমাণ দিতেই এবার সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে নামছেন খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈঞ্চব। নিউ গড়িয়া-বিমানবন্দর মেট্রো প্রকল্পের যে ‘চিংড়িঘাটা জট’ নিয়ে বছরের পর বছর সাধারণ মানুষকে নাকাল হতে হয়েছে, রাজনীতির নোংরা খেলায় থমকে থেকেছে প্রজেক্ট, এক ঝটকায় সেই জটের দফারফা করল নতুন সরকার। এবার আর শুধু নবান্নের বন্ধ ঘরে বৈঠক নয়, কাজের গতি দেখতে সরাসরি চিংড়িঘাটায় যৌথ পরিদর্শনে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী ও রেলমন্ত্রী।
কলকাতা তথা রাজ্যের মানুষ খুব ভালো করেই জানেন, পূর্বতন জমানার অসহযোগিতা এবং সদিচ্ছার অভাবে কীভাবে এই চিংড়িঘাটা মোড়ে এসে থমকে গিয়েছিল মেগা মেট্রো প্রকল্প। কখনো ট্রাফিক ব্লকের অজুহাত, কখনো আবার আইনি জটিলতার জুজু দেখিয়ে কেন্দ্রের স্বপ্নের প্রকল্পকে আটকে রাখা হয়েছিল। ভোগান্তি হচ্ছিল কার? নিত্যযাত্রীদের। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ইএম বাইপাসের জ্যামে আটকে সাধারণ মানুষ যখন ক্ষোভ উগরে দিচ্ছিলেন, তখন তৎকালীন শাসকেরা ব্যস্ত ছিলেন সস্তা রাজনীতিতে। কিন্তু শনিবারের নবান্ন বৈঠক স্পষ্ট করে দিল—উন্নয়নের চাকাকে আর স্তব্ধ করে রাখা যাবে না।বিজেপি ঘনিষ্ঠ মহল থেকে এই যৌথ পরিদর্শনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, এর আগে কেন্দ্রের মন্ত্রীদের বাংলায় পা রাখলে যেখানে অসহযোগিতার মুখে পড়তে হতো, সেখানে আজ খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী রেলমন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে স্পটে যাচ্ছেন জট ছাড়াতে।
খবর স্পষ্ট, চিংড়িঘাটা মোড়ের পিয়ার পিলারের কাজ যাতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শেষ করা যায়, তার জন্য সমস্ত রকম প্রশাসনিক ছাড়পত্র এক টেবিলেই নিশ্চিত করা হয়েছে। বাংলার মানুষ এবার নিজেদের চোখে দেখবে ডাবল ইঞ্জিনের স্পিড কাকে বলে। ভাঙা রেকর্ডের মতো “কাজ হচ্ছে না” বলে কান্নাকাটি করার দিন শেষ, এবার সগর্বে চিংড়িঘাটার বুক চিরে ছুটবে মেট্রো।