প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-যাঁকে রুখতে প্রাক্তন শাসকদল চক্রান্তের কোনো জাল বুনতে বাকি রাখেনি, যাঁর বিরুদ্ধে দিনের পর দিন কুৎসার পাহাড় খাড়া করা হয়েছিল, আজ সময়ের চাকা ঘুরে সেই মানুষটির নেতৃত্বকেই দেশের সেরা ‘ঐতিহাসিক ম্যাজিক’ বলে সিলমোহর দিল দিল্লি। শনিবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মুখোমুখি বসে ঠিক এই ভাষাতেই তাঁর প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করলেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে রেলমন্ত্রী সোচ্চারে ঘোষণা করলেন, “শুভেন্দুর নেতৃত্বে বাংলায় এক নতুন ইতিহাস তৈরি হয়েছে।” আর মন্ত্রীর এই একটি বাক্যেই যেন কার্যত কম্পন শুরু হয়ে গেছে পরাজিত তৃণমূল শিবিরে।

যে নন্দীগ্রাম আর ভবানীপুরে একদা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর অহংকার চূর্ণ করে বিজয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী, ২০২৬-এর মে মাসে সেই মানুষটিই গোটা বাংলায় পদ্ম ফোটানোর মূল কারিগর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। অশ্বিনী বৈষ্ণবের আজকের বক্তব্য প্রমাণ করে দিল যে, শুভেন্দু অধিকারী কেবল একজন সফল জননেতাই নন, তিনি বাংলার ভাগ্য পরিবর্তনের এক নতুন রূপকার। রেলমন্ত্রী স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন, এতদিন যাঁরা স্রেফ পরিবারের যুবরাজকে তোষণ করতে গিয়ে বাংলার আসল ভূমিপুত্রকে খাটো করার চেষ্টা করেছিলেন, আজ বাংলার মানুষ ব্যালট বক্সে এবং দিল্লি রাজদরবারে তাঁদের যোগ্য জবাব দিয়ে দিয়েছে।

গত এক দশক ধরে বাংলা কী দেখেছে? কেন্দ্রের পাঠানো টাকা চুরির খেলা, আর কোনো উন্নয়নমূলক প্রকল্প এলেই ‘দিদিমণি’-র সেই চেনা অসহযোগিতা ও সংঘাতের রাজনীতি। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারী নবান্নের দায়িত্বে আসতেই সেই ছবিটা ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেছে। রেলমন্ত্রী এদিন বলেন, শুভেন্দুর প্রশাসনিক তৎপরতার কারণেই কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে এক অভূতপূর্ব সমন্বয় তৈরি হয়েছে। যে ফাইলগুলো এতদিন নবান্নের লাল ফিতের ফাঁসে আটকে ধুলো জমছিল, নতুন মুখ্যমন্ত্রীর সদিচ্ছায় আজ তা আলোর মুখ দেখছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রেলমন্ত্রীর মুখ থেকে এই ‘ইতিহাস’ শব্দটির ব্যবহার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর মানে পরিষ্কার—প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার এখন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ওপর ১০০ শতাংশ আস্থা রাখছে। বাংলা যে আর কোনো ‘কাটমানি সিন্ডিকেট’ বা পিসি-ভাইপোর প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি নয়, বরং উন্নয়নের এক নতুন এক্সপ্রেসওয়ে, তা আজ প্রমাণিত। পরাজিত তৃণমূল যতই এখন বিরোধী আসনে বসে ছটফট করুক না কেন, সত্য এটাই—শুভেন্দুর হাত ধরেই বাংলা তাঁর হারানো গৌরব ফিরে পাওয়ার ঐতিহাসিক যাত্রাপথ শুরু করে দিয়েছে। রেলমন্ত্রীর এই শংসাপত্র তারই সবচেয়ে বড় প্রমাণ।