প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের ঠিক আগে এক মস্ত বড় রাজনৈতিক চমক দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI)। ২০২৬ সালের সাধারণ বিধানসভা নির্বাচনে যে ‘ম্যাজিক’ প্রতীক নিয়ে বাজিমাত করেছিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (AJUP)-এর প্রধান হুমায়ুন কবীর, আসন্ন উপনির্বাচনে সেই চিহ্ন আর ব্যবহার করতে পারছে না তাঁর দল। কমিশন সূত্রে খবর, হুমায়ুন কবীরের দলের কাছ থেকে তাদের চেনা ‘বাঁশি’ প্রতীকটি সম্পূর্ণভাবে তুলে নেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে উপনির্বাচনের ময়দানে AJUP প্রার্থীকে লড়াই করতে হবে সম্পূর্ণ নতুন ‘টেবিল’ প্রতীক নিয়ে। কমিশনের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ফলে উপনির্বাচনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে রেজিনগরের রাজনৈতিক সমীকরণ এক ধাক্কায় অনেকটাই ওলটপালট হয়ে গেল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, ‘বাঁশি’ কোনো আঞ্চলিক বা ছোট দলের জন্য স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত প্রতীক নয়। এটি আসলে একটি ‘ফ্রি সিম্বল’ (Free Symbol)। গত সাধারণ নির্বাচনে হুমায়ুন কবীর এই ‘বাঁশি’ প্রতীক নিয়ে লড়াই করেই রেজিনগর ও নওদা—দুটি আসন থেকেই বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে নওদা আসনটি নিজের কাছে রেখে তিনি রেজিনগর থেকে ইস্তফা দেওয়ায় আগামী ৬ অক্টোবর এই আসনে উপনির্বাচন ঘোষণা করা হয়েছে।রেজিনগর উপনির্বাচনে এবার নিজের ছেলে গোলাম নবি আজাদ (রবিন)-কে প্রার্থী করেছে AJUP। বাবার জেতা প্রতীকটি যাতে ছেলের জন্যও সংরক্ষিত রাখা হয়, তার জন্য দলের তরফে কমিশনে আবেদনও জানানো হয়েছিল। কিন্তু কমিশনের তরফ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, উপনির্বাচনের ক্ষেত্রে আগে থেকে কোনো ‘ফ্রি সিম্বল’ কোনো দলের জন্য নির্দিষ্ট বা সংরক্ষণ করে রাখা যায় না। আর এই আইনি নিয়মের গ্যাঁড়াকলেই শেষমেশ হাতছাড়া হলো হুমায়ুন শিবিরের মূল নির্বাচনী অস্ত্র।

‘বাঁশি’ প্রতীক হাতছাড়া হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হতেই জোর ধাক্কা খেয়েছে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির কর্মী-সমর্থকেরা। হুমায়ুন কবীরের পুত্র গোলাম নবি আজাদ রবিন আক্ষেপের সুরে জানান, “ইতিমধ্যেই রেজিনগর বিধানসভার বেশিরভাগ এলাকায় ‘বাঁশি’ চিহ্নকে দলের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরে দেওয়াল লিখনের কাজ শেষ হয়ে গিয়েছিল। এখন সেই সব দেওয়াল লিখন মুছে নতুন করে আমাদের প্রতীক ‘টেবিল’ চিহ্নের ছবি আঁকতে হবে এবং ভোটারদের নতুন করে তা চেনাতে হবে।” তবে প্রতীক জট তৈরি হলেও ময়দানে পিছিয়ে আসতে নারাজ হুমায়ুন শিবির। তাঁদের দাবি, এর আগে নির্বাচনে হুমায়ুন কবীর এই রেজিনগর কেন্দ্রেই ‘টেবিল’ প্রতীক নিয়ে লড়াই করেছিলেন। ফলে এই প্রতীকটিও রেজিনগরের সাধারণ মানুষের কাছে যথেষ্ট পরিচিত এবং এই নতুন চিহ্ন নিয়েই তাঁরা উপনির্বাচনে বাকি দলগুলোকে টেক্কা দেবেন।