প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্য রাজনীতিতে ফের একবার চরম নাটকীয় মোড়। একদিকে যখন দল ও প্রতীক কার দখলে থাকবে— তাই নিয়ে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ শিবির এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের মধ্যে আইনি ও রাজনৈতিক দড়িটানাটানি তুঙ্গে, ঠিক তখনই ঘটল এক বিস্ফোরক ঘটনা। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা তথা বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর প্রধান মুখ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে গোপন ও রুদ্ধদ্বার বৈঠক করলেন অভিষেক-ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হাই-প্রোফাইল আইনজীবী সঞ্জয় বসু। এই আকস্মিক সাক্ষাৎকে কেন্দ্র করে বাংলার রাজনৈতিক মহলে এখন তীব্র জল্পনা— তবে কি পর্দার আড়ালে নতুন কোনও ‘সেটিং’ বা রফাসূত্র খোঁজার চেষ্টা চলছে?

বিক্ষুব্ধ তৃণমূল শিবির ইতিমধ্যে কলকাতার বালিগঞ্জে তাদের নতুন কেন্দ্রীয় দলীয় কার্যালয় খোলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি সেরে ফেলেছে। শুধু তাই নয়, তৃণমূল কংগ্রেসের মূল প্রতীক (লোগো), দিল্লি ও কলকাতার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং দলের যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে মরিয়া ঋতব্রত গোষ্ঠী। সূত্রের খবর, এই আইনি লড়াই লড়ার জন্য দিল্লি থেকে সুপ্রিম কোর্টের একঝাঁক বাঘা বাঘা আইনজীবীকেও নিয়োগ করেছে তারা। অন্যদিক থেকে চাপ আসতেই আইনি রক্ষাকবচ নিশ্চিত করতে কোমর বেঁধে নেমেছে অভিষেক শিবির। দলের সম্পত্তি ও নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর বাবা-মা ইতিমধ্যেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। এই আইনি লড়াইয়ের মাঝেই আচমকা অভিষেকের সমস্ত আইনি বিষয় দেখভাল করা সঞ্জয় বসুর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দরবারে হাজির হওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কয়েকদিন আগেই একটি গোপন বৈঠকের পর রাজনৈতিক মহলে খবর রটে যায় যে, বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী সম্ভবত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দল থেকে সাসপেন্ড করতে চলেছে। তবে এই খবরটিকে সম্পূর্ণ ‘ভুয়ো’ ও ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে। তিনি স্পষ্ট জানান, অভিষেককে সাসপেন্ড করার মতো কোনও সিদ্ধান্ত দলের কোনও অধিবেশনে নেওয়া হয়নি এবং এ বিষয়ে কোনও আলোচনাই হয়নি। আইনি লড়াইয়ের এই চরম আবহে অভিষেক শিবিরের খাস লোক বলে পরিচিত সঞ্জয় বসু কেন ঋতব্রতের সঙ্গে দেখা করতে গেলেন? এটি কি অভিষেক শিবিরের পক্ষ থেকে কোনও সমঝোতার প্রস্তাব, নাকি আইনি লড়াইয়ের আগে রণকৌশল যাচাইয়ের চেষ্টা— তা নিয়ে এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি। এখন দেখার, বালিগঞ্জের নতুন কার্যালয় খোলার পর তৃণমূলের এই অভ্যন্তরীণ যুদ্ধ কোন দিকে মোড় নেয়।