প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-সর্বসর্বা নেত্রীর একচ্ছত্র আধিপত্যকে প্রকাশ্য আদালতে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এবার এক নজিরবিহীন গৃহযুদ্ধের সাক্ষী থাকল জাতীয় রাজনীতি। আজ দিল্লিতে ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ECI) দরবারে তৃণমূলের দলীয় প্রতীক ও নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে প্রায় ১ ঘণ্টা ২০ মিনিটের এক ম্যারাথন ও রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আর সেই হাইপ্রোফাইল শুনানি শেষে বাইরে এসেই দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক বয়ান দিয়ে তোলপাড় ফেলে দিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দলনেত্রীর রাজনৈতিক কর্তৃত্বকে সরাসরি নস্যাৎ করে তিনি দলের অন্দরের একনায়কতন্ত্র ফাঁস করে বলেন, “না খাতা না বহি, জো ডক্টর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কহে ওহি সহি! এই নীতিতে কোনও গণতান্ত্রিক দল চলতে পারে না।” এর পরপরই তিনি আরও এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসেন, “আমি আইনস্টাইনে বিশ্বাসী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ে নয়।”

দলের অভ্যন্তরীণ স্বৈরাচার ও পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দেন যে, তৃণমূল কারও ব্যক্তিগত বা পরিবারভিত্তিক সম্পত্তি নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একক সিদ্ধান্তের ক্ষমতাকে কাঠগড়ায় তুলে তিনি বলেন:”একজনের কথায় সব চলতে পারে না।”

তিনি ক্ষোভের সুরে জানান, নিয়মতান্ত্রিক খাতা-কলম বা গণতান্ত্রিক পদ্ধতি ছাড়া কোনও দল চলতে পারে না এবং দলের সাধারণ কর্মীরাই এর আসল চালিকাশক্তি।প্রতীক ও বিকল্প প্রতীক নিয়ে বড় খোলসাসামনেই রাজ্যের হাইভোল্টেজ উপনির্বাচন। তার আগে প্রতীক হাতছাড়া হওয়ার জল্পনা তুঙ্গে থাকলেও এদিনের বৈঠক শেষে ঋতব্রত জানান: কমিশনের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মূল প্রতীক নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি।পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য কোনও বিকল্প প্রতীক নিয়েও কোনও আলোচনা হয়নি।

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের তোলা প্রতিটি আইনি ও সাংগঠনিক প্রশ্নের চুলচেরা উত্তর দিয়েছেন তাঁরা। এর সপক্ষে প্রয়োজনীয় সমস্ত তথ্য ও নথিপত্র ইতিমধ্যেই কমিশনের দপ্তরে জমা করা হয়েছে। উপনির্বাচনের মনোনয়নের সময়সীমা চলে আসায় কমিশনকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন তাঁরা। তবে এই আইনি লড়াইয়ের শেষ পরিণতি নিয়ে তিনি স্পষ্ট বলেন, “কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত।” দিল্লির নির্বাচন সদনের বাইরে আজ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই নজিরবিহীন ঝাঁঝালো ও আক্রমণাত্মক বয়ান স্পষ্ট করে দিল যে, ঘাসফুল শিবিরের অন্দরের ফাটল এবার চূড়ান্ত ভাঙনের দিকে এগিয়ে চলেছে।