প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে চরম নাটকীয় মোড়। ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েও দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরাসরি হস্তক্ষেপে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে নিজের সিদ্ধান্ত বদল করলেন তৃণমূল প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী। আর এই ঘণ্টায় ঘণ্টায় ভোলবদল নিয়ে শাসক দলকে বেনজির ভাষায় বিঁধেছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। আজ, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (শনিবার) ছিল রেজিনগর উপনির্বাচনের মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। সকালে এক প্রকার সাংবাদিক বৈঠক করে রবিউল আলম চৌধুরী স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে কর্মী-সমর্থকদের অভাব এবং নানাবিধ প্রতিকূলতার কারণে তিনি এই উপনির্বাচনে লড়বেন না। তবে কালীঘাট থেকে ফোন আসতেই দুপুরের মধ্যে বদলে যায় গোটা ছবিটা।

তৃণমূল প্রার্থীর এই নাটকীয় ডিগবাজি ও ‘ভোট নিয়ে ছেলেখেলা’ করাকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছে পদ্ম শিবির। এই প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য তৃণমূলের দলীয় কোন্দল ও নীতিহীনতাকে কটাক্ষ করে এক চরম রসাত্মক ও তীক্ষ্ণ তোপ দাগেন। তিনি বলেন: “দুর্ভাগ্য এটাই যে পশ্চিমবঙ্গে যে প্রশ্ন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে গত ১০ বছর করা উচিত ছিল, সেটা তারা বিজেপিকে করেন। আমি দলের পক্ষ থেকে এটুকু বলতে পারি তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের, আর যার নাম বললেন রবিউল আলম চৌধুরী… উনি একটু পাকা বেল খান। শরীর ঠান্ডা থাকবে, পেট ঠান্ডা থাকবে, তারপরে বিবৃতি দিন।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সকালে সাংগঠনিক দুর্বলতার দোহাই দিয়ে রবিউল আলমের ভোটের লড়াই থেকে পিছু হটার সিদ্ধান্ত তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ফাটলকেই প্রকাশ্যে এনে দিয়েছিল। আর ঠিক সেই জায়গাতেই আজ চরম রাজনৈতিক আঘাত করলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি।আগামী ৬ অক্টোবর ২০২৬ রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। ভোটের ঠিক আগে রেজিনগরে রবিউল আলম চৌধুরীর এই নজিরবিহীন টানাপোড়েন এবং তার জবাবে শমীকের এই ঝাঁঝালো ‘বেল দাওয়াই’ মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও কয়েক গুণ উত্তপ্ত করে তুলল।