প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বইমেলার ভিড়, স্থানসংকট আর বাঙালির আবেগ—এই চেনা সমীকরণের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে এক গভীর রাজনৈতিক ‘অস্পৃশ্যতা’? গতকাল কলকাতার ঐতিহাসিক মহাজাতি সদনের মঞ্চ থেকে এমনই এক বিস্ফোরক তত্ত্ব খাড়া করলেন বিজেপি সাংসদ তথা রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর এই একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই এখন তোলপাড় রাজ্যের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহল।

গতকাল মহাজাতি সদনের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানান, বইমেলা বাঙালির কাছে স্রেফ একটা মেলা নয়, এটি একটি খাঁটি আবেগ। আর সেই আবেগের জায়গায় স্থানসংকট বা অব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ-বিচ্যুতি থাকা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু এর ঠিক পরেই তিনি রাজ্যের শাসনব্যবস্থা ও বুদ্ধিজীবী মহলকে নিশানা করে ছুঁড়ে দেন এক মারাত্মক অভিযোগ।

বিজেপি সভাপতির দাবি, পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতে এক অদৃশ্য অথচ অত্যন্ত সক্রিয় ‘অস্পৃশ্যতা’ কাজ করে চলেছে। রাজনৈতিক মতাদর্শ আলাদা হলেই কোনো গুণী মানুষকে কোণঠাসা করার চেষ্টা চলছে। সুর চড়িয়ে শমীক বলেন, “যার দলেই থাকুন না কেন, কাউকে ভিন্ন দলে রাঙিয়ে দেবেন—এটা কোনোভাবেই ঠিক নয়।”

এদিন সরাসরি রাজ্যের পূর্বতন শাসকদলকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে শমীক ভট্টাচার্য অভিযোগ করেন, এতদিন পশ্চিমবঙ্গে যে শাসনব্যবস্থা চলেছে, তা আদতে কোনো নির্দিষ্ট দলের সরকার, সমগ্র পশ্চিমবঙ্গের আপামর জনগণের সরকার তা হয়ে উঠতে পারেনি। ক্ষমতার এই দলীয়করণের ফলেই রাজ্যের সাহিত্য ও সংস্কৃতির পরিমণ্ডল আজ কলুষিত হচ্ছে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

মহাজাতি সদনে দাঁড়িয়ে রাজ্য বিজেপি সভাপতির এই সুচতুর ও ধারাল আক্রমণ কি আগামী দিনে বাংলার সংস্কৃতি জগতে কোনো বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত? নাকি বইমেলার আবেগকে হাতিয়ার করে পূর্বতন শাসকদলের বিরুদ্ধে এক নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণের ঘুঁটি চাললেন তিনি? শমীকের এই ‘অস্পৃশ্যতা’র পাল্টা জবাব ঘাসফুল শিবির কীভাবে দেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।