প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ঠিক দু’বছর আগে ছাত্র-জনতার প্রবল গণঅভ্যুত্থানের মুখে পড়ে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে চেপে ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু দীর্ঘ দু’বছরের নীরবতা ভেঙে এবার নিজের দেশে ফেরার চূড়ান্ত বার্তা দিলেন তিনি। বুধবার (৫ আগস্ট ২০২৬) নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া (FCC South Asia) আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সভায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এক প্রকার বোমা ফাটালেন আওয়ামী লীগ সুপ্রিমো। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বরেই তিনি বাংলাদেশে ফিরছেন।
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথোপকথনের সময় ৭৮ বছর বয়সী এই নেত্রী বলেন, “ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস। তাই আমি ডিসেম্বরেই নিজের দেশে ফিরতে চাই।” তবে সুরক্ষার স্বার্থে কিংবা অন্য কোনো কৌশলী কারণে বাংলাদেশে পা রাখার সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ বা তারিখ এখনই খোলসা করতে চাননি তিনি। তিনি আরও যোগ করেন, “বাংলাদেশে এখন একটি জাতীয় রিকনসিলেশন বা জাতীয় সমঝোতা-পুনর্মিলন দরকার। আমি আমার মানুষের জন্য ফিরছি।”
ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের বিশেষ আদালত (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল) কর্তৃক শেখ হাসিনাকে অনুপস্থিতিতেই (In Absentia) ফাঁসির দণ্ড দেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও তিনি দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়ে বড় রাজনৈতিক বাজি খেললেন। তার কথায়, “ওরা আমাকে গ্রেফতার করতে পারে, কারাগারে পাঠাতে পারে, এমনকি মেরেও ফেলতে পারে। কিন্তু ভয় পেয়ে আমি নিজের দেশের মানুষের প্রতি আমার দায়িত্ব থেকে পিছিয়ে আসতে পারি না।”
ভারতীয় মাটিতে বসে শেখ হাসিনার এই বিতর্কিত বক্তব্য সামনে আসতেই তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছে বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক। ঢাকার তরফে জানানো হয়েছে, ভারতের মাটিতে বসে হাসিনাকে এই ধরনের লাইভ বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত। এদিকে নয়াদিল্লির তরফ থেকে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট করেছে, এই সভার পেছনে সরকারের কোনো ভূমিকা নেই; এটি সম্পূর্ণ একটি বেসরকারি মিডিয়া ফোরামের উদ্যোগ ছিল। ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ নেত্রীর এই সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে ওপার বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন ঝড়ের পূর্বাভাস মিলছে।