প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-“এমন ডিজে বাজাব, কান ফেটে যাবে!”— ভোটের ময়দানে বিরোধীদের চমকাতে অতীতে যে হুঙ্কার শোনা গিয়েছিল, সেই ‘ডিজে’ মন্তব্যই যেন এখন বুমেরাং হয়ে উঠছে ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। রাজ্যে ক্ষমতার সমীকরণ বদলে যেতেই এবার পুরোনো একের পর এক বিতর্কিত বয়ান নিয়ে আইনি লড়াইয়ের জল গড়াতে শুরু করল উত্তরবঙ্গের মাটিতে। আইনের হাত যে কত লম্বা, তা আরও একবার প্রমাণিত হচ্ছে। নির্বাচন পর্বে দেওয়া তাঁর সেই বিতর্কিত এবং আক্রমণাত্মক মন্তব্যের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে সোজা থানার দ্বারস্থ হয়েছিলেন শিলিগুড়ির বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সঞ্জয় সিংহল। শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল।

ভোট প্রচারের গরম বাজারে মঞ্চ কাঁপাতে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধীদের উদ্দেশ্য করে ‘ডিজে (DJ)’ বাজানোর যে কড়া দাওয়াই দিয়েছিলেন, তা মোটেই ভালো চোখে নেননি সাধারণ নাগরিকরা। অভিযোগকারী ব্যবসায়ীর দাবি ছিল, শুধুমাত্র একটি নয়, তৃণমূল নেতার মোট ৪টি সুনির্দিষ্ট বক্তব্য ও ভিডিও ক্লিপ সমাজ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য অত্যন্ত উস্কানিমূলক ছিল। সেই সমস্ত ডিজিটাল প্রমাণসহ সাইবার থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়।

ক্ষমতার অলিন্দ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর এখন এই সমস্ত পুরোনো ‘উস্কানিমূলক’ মন্তব্যের হিসাব যখন পুলিশি ফাইলে নতুন করে শুরু হচ্ছে, তখন স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তি বাড়ছে ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে।

রাজনীতির ময়দানে দাঁড়িয়ে মাইক হাতে গরম গরম সংলাপ দেওয়া এক জিনিস, আর সেই সংলাপের আইনি দায় নেওয়া সম্পূর্ণ অন্য জিনিস। সাধারণ মানুষের মনেও প্রশ্ন উঠছে, তবে কি কেবল রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই এই ধরণের উগ্র ভাষার প্রয়োগ করা হয়েছিল? তদন্তকারী সংস্থাগুলি এই ধরণের পুরোনো উস্কানিমূলক মন্তব্যের বিরুদ্ধে আগামী দিনে আর কী কী কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই বড় দেখার বিষয়।