প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
অনেক আশা করে এসএসসির নতুন পরীক্ষায় বসে ছিলেন অনেক নয়া পরীক্ষার্থীরাও। যাদের চাকরি বাতিল হয়ে গিয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে, তাদের মধ্যে যারা যোগ্য ছিলেন, তারা যেমন পরীক্ষায় বসে ছিলেন, ঠিক তেমনই যেহেতু রাজ্যে বহুদিন পর এসএসসি হচ্ছে, সেহেতু অনেক আশা নিয়ে পরীক্ষা দিয়েছিলেন ফ্রেশার্স ক্যান্ডিডেটরাও। কিন্তু এই রাজ্যে যে দুর্নীতির বাইরে একটাও নিয়োগ হবে না, এই রাজ্যে যে স্বচ্ছতার সহকারে নিয়োগ প্রক্রিয়া করবে না বর্তমান সরকার, তা যত সময় যাচ্ছে, ততই স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে সকলের কাছে। ইতিমধ্যেই এসএসসির ফলাফল প্রকাশিত হলেও, ইন্টারভিউয়ের ডাক পাচ্ছেন কারা? তা নিয়ে একটা বড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যারা নতুন পরীক্ষা দিয়েছিলেন, তাদের বক্তব্য, কেন যোগ্য চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বাড়তি নম্বর দেওয়া হবে? পাশাপাশি যোগ্যদের মধ্যেও অনেকেই ডাক পাননি। এক্ষেত্রে অযোগ্যদের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে বলেই অভিযোগ উঠছে। আর তার মধ্যেই যখন রাজ্য সরকারের দুর্নীতি নিয়ে সকলের সোচ্চার, তখন শুধু সরকার নয়, আরও একজন ব্যক্তির কথা উল্লেখ করে, তিনিও এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত বলেই দাবি করলেন প্রাক্তন বিচারপতি তথা তমলুকের বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গাঙ্গুলী।
এসএসসির নয়া প্রক্রিয়ায় সকলেই আশা করেছিলেন যে, এবার হয়ত স্বচ্ছতার সহকারে নিয়োগ প্রক্রিয়া করা হবে। কিন্তু কিসের কি? এই রাজ্যে দুর্নীতিকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য যে রাজ্য সরকার এবং এসএসসি সব রাস্তা বেছে নিয়েছে, তা আবার দিনের আলোর মত স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে চাকরিপ্রার্থীদের কাছে। নয়া পরীক্ষার্থীরা অনেকে পুরো নম্বর পেয়েও, কেন ইন্টারভিউয়ে ডাক পেলেন না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পাশাপাশি যারা যোগ্য ছিলেন, যারা এতদিন চাকরি করে এসেছেন, যারা আবার পরীক্ষায় বসে ছিলেন, তাদের মধ্যেও অনেকে ডাক পাননি বলে অভিযোগ উঠছে। তবে এই ব্যাপারে সকলে রাজ্য সরকার বা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে অন্যান্য দপ্তরকে দায়ী করলেও, আরও একজন এই গোটা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। এক্ষেত্রে এসএসসির চেয়ারম্যানের নাম উল্লেখ করে তাকেও কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিলেন তমলুকের বিজেপি সাংসদ।
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গাঙ্গুলী। আর সেখানেই এসএসসির এই নয়া প্রক্রিয়া এবং সেখানেও যেভাবে অভিযোগ উঠছে, তা নিয়ে তাকে প্রশ্ন করা হয়। আর সেই ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে অভিজিৎবাবু বলেন, “দেখুন এখানে আমার বলার কথা এটাই যে, এখানে এত কেলেঙ্কারি বের হচ্ছে, এক্ষেত্রে আমি এতদিন মনে করতাম যে, স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান, তিনি হয়ত এই ধরনের খারাপ কাজের সঙ্গে যুক্ত নন। কিন্তু এখন দেখছি, তিনিও এই ধরনের খারাপ কাজের সঙ্গে যুক্ত এবং পরিস্থিতি তার হাতের বাইরে। তিনি সেটাকেই সমর্থন করে চলেছেন। না হলে এই ধরনের ঘটনা ঘটে না। এর বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছে, আমরা আদালতের রায়ের জন্য অপেক্ষা করব।”