প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয় ও রাজ্য হাতছাড়া হওয়ার পর তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙন এবার প্রলয়ংকরী রূপ নিল। কাকলি ঘোষ দস্তিদার সহ ২০ জন সাংসদ আগেই দলনেত্রীর পাশ থেকে সরে গিয়েছিলেন। এবার সেই তালিকায় যোগ হলো তৃণমূলের লোকসভার অন্যতম প্রধান মুখ এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের ছায়াসঙ্গী সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম! শনিবার (১৩ জুন ২০২৬) সকালেই কলকাতা থেকে দিল্লি উড়ে যান সুদীপ। সেখানে গিয়ে তিনি আরেক ‘বিদ্রোহী’ সাংসদ শতাব্দী রায়কে সাথে নিয়ে সোজা হাজির হন কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের দিল্লির বাসভবনে। এই মেগা বৈঠকের খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত চরম অনুগত সৈনিকের দলত্যাগ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ নিঃসঙ্গ এবং দেউলিয়া করে দিল। ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে সুদীপ ও শতাব্দীর এই বৈঠক ঘিরেই জল্পনা তুঙ্গে। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের দাবি, বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের এনডিএ (NDA) শিবিরে যোগ দেওয়ার যে প্রক্রিয়া চলছে, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ও এবার সেই পথেই পা বাড়ালেন। ইতিমধ্যে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ শিবিরের শক্তি বেড়ে ২২ জন সাংসদে পৌঁছাতে পারে বলে সূত্রের খবর। এর আগে রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে সুখেন্দুশেখর রায়ও ইস্তফা দিয়েছেন। আগামী সোমবার (১৫ জুন) বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদেরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সাথে দেখা করে এনডিএ-কে সমর্থন জানানোর আনুষ্ঠানিক চিঠি দিতে পারেন বলে জোর জল্পনা রাজনৈতিক অলিন্দে।

বিজেপি শিবিরের দাবি, অন্যায়-দুর্নীতি আর ঔদ্ধত্যের জেরে তৃণমূলের তাসের ঘর ভেঙে পড়া এখন সময়ের অপেক্ষা। যে দলের সাংসদেরাই নেত্রীর ওপর ভরসা রাখতে পারছেন না, সেই দলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ যে খাদের কিনারায়, তা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পদক্ষেপেই পরিষ্কার।