প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আমফান ঘূর্ণিঝড়ের ত্রাণ তহবিলের ২৫০ কোটি টাকা লুঠ ও বিপুল আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে এবার সরাসরি আইনের কাঠগড়ায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার (১৩ জুন ২০২৬) দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে এই মেগা কেলেঙ্কারি ও ‘কাটমানি’ সাম্রাজ্য চালানোর অভিযোগে একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করলেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস। রাজ্য থেকে তৃণমূলের জমানার অবসান ঘটলেও, সাধারণ মানুষের রক্ত জল করা ত্রাণের টাকা লুটের হিসাব যে এবার কড়ায়-গণ্ডায় চোকানো হবে, এই এফআইআর তারই স্পষ্ট বার্তা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
২০২০ সালের আমফান ঘূর্ণিঝড়ের পর কেন্দ্রের পাঠানো ২৫০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ প্রকৃত দুর্গতদের না দিয়ে, একই তৃণমূলী পরিবারের একাধিক ভুয়ো অ্যাকাউন্ট তৈরি করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে এই এফআইআর-এ। এই মেগা কেলেঙ্কারির অন্তর্তদন্তে কোনো ফাঁক না রাখতে জেলা পুলিশ কমিশনারের কাছে অবিলম্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠনের জোরালো দাবি জানিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব।ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত প্রতিটি থানায় এই একই আর্থিক তছরুপের অভিযোগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে পৃথক পৃথক এফআইআর দায়ের করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিজেপি।
একদিকে ভোররাত থেকে আর্থিক প্রতারণার মামলায় কালীঘাটের বাসভবনে দীর্ঘ পুলিশি তল্লাশি, অন্যদিকে আমফান দুর্নীতিতে এফআইআর— সব মিলিয়ে বিদায়ী সাংসদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন চরম অস্বস্তিতে। আগামী ১৫ ও ১৬ জুন যথাক্রমে কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডি (ED) এবং সিআইডি (CID)-র মুখোমুখি হওয়ার কড়া সমনও ঝুলছে তাঁর মাথার ওপর।
বিজেপি শিবিরের স্পষ্ট দাবি, ক্ষমতার দম্ভ চলে গেলেও দুর্নীতির যে পাহাড় তৈরি করা হয়েছিল, তার পর্দাফাঁস হওয়া এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা। সাধারণ মানুষের টাকা যারা আত্মসাৎ করেছে, আইন মেনে তাদের উপযুক্ত শাস্তি হতেই হবে। অন্যদিকে, যথারীতি এই ঘটনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রনোদিত এবং বদলা নেওয়ার চেষ্টা বলে দায় এড়ানোর মরিয়া চেষ্টা করছে তৃণমূল নেতৃত্ব।