প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-লোকসভার সদস্যপদ রক্ষা করা নিয়ে দিল্লির সংসদীয় রাজনীতিতে এক চরম নাটকীয় মুহূর্ত তৈরি হলো। তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী অংশ ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস (NCPI) সাংসদদের পদ খারিজের নোটিশের জবাব দেওয়ার আজই ছিল চূড়ান্ত সময়সীমা। কিন্তু সেই বেঁধে দেওয়া মেয়াদের শেষ দিনেই লোকসভার সচিবালয়ে চিঠি পাঠিয়ে নাটকীয়ভাবে আরও ৪ সপ্তাহ বা এক মাস সময় চেয়ে নিলেন দলত্যাগী নেতা তথা বর্ষীয়ান সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদনের ভিত্তিতেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার দফতর থেকে এই দলত্যাগী সাংসদদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনে সদস্যপদ খারিজের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে লোকসভায় জিতেও পরবর্তীতে দল ভাঙন ঘটিয়ে ২০ জন সাংসদকে নিয়ে বিদ্রোহী গোষ্ঠী গঠন করেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। পরবর্তীতে তাঁরা ‘ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ (NCPI)-তে যোগ দেওয়ায় দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী তাঁদের সদস্যপদ খারিজের দাবি জানান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রটি ছিল প্রায় ২০ পাতার এক দীর্ঘ নথি, যেখানে সুদীপদের বিরুদ্ধে বহু অকাট্য প্রমাণ ও তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সেই নথির ভিত্তিতেই লোকসভার সচিবালয় (Lok Sabha Secretariat) বিদ্রোহী সাংসদদের চিঠি পাঠিয়ে জানতে চেয়েছিল—”কেন আপনাদের লোকসভার সদস্যপদ খারিজ করা হবে না?” প্রথম দফায় সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়দের আবেদনের পর সময় বাড়িয়ে জবাব দেওয়ার শেষ দিন ধার্য করা হয়েছিল আজ, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (মঙ্গলবার)। কিন্তু সময়সীমা পার হওয়ার ঠিক আগেই নতুন করে সময় চেয়ে নিলেন তৃণমূলের এই প্রাক্তন লোকসভা নেতা।

বিদ্রোহী এনসিপিআই (NCPI) সাংসদদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া দীর্ঘ ২০ পাতার অভিযোগের প্রতিটি পয়েন্ট ধরে ধরে সুনির্দিষ্ট এবং সুসংহত আইনি উত্তর তৈরি করার জন্যই তাঁদের অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন। সেই কারণেই তাঁরা লোকসভার সচিবালয়ে চিঠি দিয়ে আগামী ২২ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময় বাড়ানোর আর্জি জানিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, তড়িঘড়ি সাংসদ পদ খারিজ হয়ে গেলে তা এই নতুন রাজনৈতিক ফ্রন্টের আইনি লড়াইয়ে বড় ধাক্কা দিতে পারে। ফলে দেশের শীর্ষ আইনজীবীদের সঙ্গে শলা-পরামর্শ করে নিখুঁত আইনি জবাব তৈরি করতেই এই চার সপ্তাহ সময় চেয়েছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়রা। এখন দেখার বিষয়, আজ নির্ধারিত দিন পার হওয়ার পর লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা সুদীপদের এই সময় বাড়ানোর আবেদন মঞ্জুর করেন, নাকি কোনো কঠোর পদক্ষেপের পথে হাঁটেন।