প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ডায়মন্ড হারবারের ‘সেবাশ্রয়’ স্বাস্থ্য শিবিরকে কেন্দ্র করে ওঠা ভুয়া চিকিৎসক ও ওষুধ কেলেঙ্কারির অভিযোগে এখন তোলপাড় রাজ্যের রাজনীতি। এই আবহে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি শ্রীঘরে পাঠানোর হুঁশিয়ারি দিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। শুধু হুঁশিয়ারি দেওয়াই নয়, এই ইস্যুতে তৃণমূলের শীর্ষ নেতার নীরবতা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ ও বিদ্রুপও ছুড়ে দিয়েছেন বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ।

রবিবার এই প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সুকান্ত মজুমদার অত্যন্ত চাঁছাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানান। তিনি স্পষ্ট দাবি করেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আজ না হয় কাল জেলের ভেতর যাবেনই। কেউ বাঁচাতে পারবেন না।” বিজেপির এই বর্ষীয়ান নেতার অভিযোগ, চিকিৎসার নামে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে। এই প্রকল্পকে ‘সেবাশ্রয়’ নয়, বরং ‘দুরাশ্রয়’ বলে আখ্যা দেন তিনি। তাঁর দাবি, শুধু এই একটি মামলাই নয়, এর পেছনে আরও বহু কেলেঙ্কারি জড়িয়ে রয়েছে, যার জেরে অভিযুক্তদের জেলযাত্রা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।

গোটা ঘটনায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৌনব্রত বা মুখ না খোলা নিয়েও তীব্র ব্যঙ্গ করেন সুকান্ত। সুরসম্রাজ্ঞীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, লতা মঙ্গেশকর বেঁচে থাকলেও হয়তো তাঁকে গান গাওয়ার জন্য এতটা অনুরোধ বা রিকোয়েস্ট করতে হতো না, যতটা ‘সেবাশ্রয়’ কাণ্ডে মুখ খোলার জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে করতে হচ্ছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির অ্যাকশন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ওঠা প্রশ্নের জবাবে তিনি একটি বিশেষ রূপক ব্যবহার করে বলেন, “বড় মাছ তো, একবারে ছিপে ওঠে না। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে তুলতে হয়।” অর্থাৎ, আইনি জাল গুটিয়ে এনেই যে মূল অভিযুক্তদের খাঁচায় বন্দি করা হবে, সেই ইঙ্গিতই দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

উল্লেখ্য, ‘সেবাশ্রয়’ কাণ্ডে ইতিমধ্যেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার সরিষা এলাকা থেকে মাটির নিচে পোঁতা সরকারি ওষুধ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে এফআইআরও (FIR) দায়ের হয়েছে। যদিও তৃণমূল শিবিরের দাবি, জনকল্যাণমূলক একটি ভালো উদ্যোগকে কালিমালিপ্ত করতেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে বিজেপি এই ধরনের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছে। তবে সুকান্ত মজুমদারের এই সাম্প্রতিক ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য যে পূর্বতন শাসক দলের ওপর চাপ আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।