প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাঁকুড়ার ইন্দাসে মানবাধিকার সংগঠন ‘সিটিজেন্স ফর জাস্টিস অ্যান্ড পিস’ (CJP)-এর আন্দোলনের সাথে যুক্ত এক পরিবারের ওপর হামলা এবং হাসপাতালে বৃদ্ধ শেখ মহম্মদ মাফিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ এই ঘটনায় বর্তমান সরকারের দিকে আঙুল তুলে “পশ্চিমবঙ্গে জঙ্গলরাজ চলছে” বলে তোপ দাগতেই, তার কড়া পাল্টা জবাব দিলেন বিজেপির শীর্ষ নেতা সুকান্ত মজুমদার। রাজনৈতিক হিংসার তত্ত্ব সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে সুকান্ত একে স্থানীয় বা ব্যক্তিগত পারস্পরিক বিবাদ বলে ইঙ্গিত করেছেন।

নিহত শেখ মহম্মদ মাফিকের পরিবারের অভিযোগ, গত ১৩ আগস্ট তাঁদের ইন্দাসের বাড়িতে ঢুকে বিজেপির দুষ্কৃতীরা বাবা ও ছেলের ওপর মারাত্মক হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় শেখ মহম্মদ মাফিককে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের দাবি, দিল্লিতে গিয়ে CJP-এর আন্দোলনে যোগ দেওয়া এবং বাড়ি ফিরে স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ দশা নিয়ে সরব হওয়ার অপরাধেই তাঁদের ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ নবান্নকে নিশানা করে “জঙ্গলরাজ” শব্দ ব্যবহার করেন।

তৃণমূলের এই অল-আউট রাজনৈতিক আক্রমণের জবাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন সুকান্ত মজুমদার। তিনি স্পষ্ট জানান যে, এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনো যোগ নেই এবং বিষয়টিকে খামোখা রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তৃণমূলকে পাল্টা ধুয়ে দিয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “গোটা দেশে এত জায়গায় আন্দোলন হলো, এত মানুষ সেখানে যোগ দিল। এমনকি আমার এলাকা থেকেও কত লোক গেল। আমরা তো কাউকে পিটাতে যাইনি। এটা কোনো পারস্পরিক বা ব্যক্তিগত বিবাদ নয় তো? যাকে এখন রাজনৈতিক আন্দোলন দিয়ে দাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে?” সুকান্ত মজুমদারের এই পাল্টা বক্তব্য স্পষ্ট করে দেয় যে, বিজেপি এই ঘটনাকে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি বা রাজনৈতিক হিংসা নয়, বরং গ্রামীণ স্তরের কোনো ব্যক্তিগত ঝামেলা হিসেবেই দেখছে।