প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে যাওয়ার পর এবার সাবেক শাসক দলের অন্দরেই শুরু হয়ে গেল নজিরবিহীন আত্মমন্থন ও তীব্র ফাটল! বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিপর্যয়ের পর ক্ষমতা হারিয়ে যখন দলের অন্দরে এমনিতেই ক্ষোভের লাভা জমা হচ্ছিল, ঠিক তখনই তা চরম বিস্ফোরণের রূপ নিল। দলেরই অন্যতম শীর্ষ, অভিজ্ঞ ও রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ের একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে এই মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই পোস্টের গভীরতা সাবেক শাসক শিবিরের অন্দরমহলের ভিতকে পুরোপুরি নাড়িয়ে দিয়েছে।
কোনো রাখঢাক না রেখেই সুখেন্দুশেখর রায় রোমান সাম্রাজ্যের ইতিহাস এবং জুলিয়াস সিজারের পতনের ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন তাঁর পোস্টে। তিনি লিখেছেন, ইতিহাসের এক বিশেষ সন্ধিক্ষণে রোমের মানুষ যেভাবে স্বৈরতন্ত্রের অবসান ঘটিয়েছিল, ঠিক একইভাবে বাংলার শুভবুদ্ধিসম্পন্ন সাধারণ মানুষও ভোট বাক্সের মাধ্যমে এক ‘অসহনীয় নৈরাজ্যের অবসান’ ঘটিয়েছেন। সরাসরি কোনো দল বা ব্যক্তির নাম না নিলেও, এই পোস্টের সময়জ্ঞান ও রাজনৈতিক বার্তা অত্যন্ত স্পষ্ট। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, এই বার্তা আর কিছুই নয়, বরং এতদিন ধরে চলা ভুল নীতি এবং জনবিচ্ছিন্নতার বিরুদ্ধে দলেরই এক শীর্ষ নেতার অন্তরের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। ক্ষমতা হারানোর পর ভোটদাতাদের এই ঐতিহাসিক রায়কে তিনি প্রকারান্তরে ‘নৈরাজ্যের কবল থেকে মুক্তি’ হিসেবেই দেখছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, সুখেন্দুশেখর রায়ের এই পোস্ট আসলে এক বিশাল হিমশৈলের চূড়ামাত্র। নির্বাচনে এই শোচনীয় পরাজয়ের পর দলের একাধিক হেভিওয়েট নেতা ও সাংসদ এখন প্রকাশ্যে মুখ খুলতে শুরু করেছেন।দলের অত্যন্ত প্রভাবশালী নেত্রী তথা বিদায়ী লোকসভার সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার নিজের সাংগঠনিক পদ হারানোর পর চার দশকের আনুগত্যের ‘পুরস্কার’ নিয়ে চরম ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। এমনকি তিনি নবগঠিত বিজেপি সরকারের প্রশাসনিক বৈঠকেও যোগ দিয়েছেন।
অন্যদিকে, শান্তনু সেনের মতো নেতারাও দলের অভ্যন্তরীণ ভুলত্রুটি এবং নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীর একাধিপত্য নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সরব হয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্ষমতা থেকে চ্যুত হওয়ার পর এই ধরণের মার্জিত অথচ অত্যন্ত ধারালো ভাষার পোস্ট প্রমাণ করে যে, দলের শীর্ষ স্তরের নেতাদের মধ্যেই নেতৃত্বের প্রতি আস্থা তলানিতে ঠেকেছে। মানুষ যে পরিবর্তন চেয়েছিল, তা এখন দলের অন্দরের নেতারাও স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছেন। সুখেন্দুশেখর রায়ের মতো একজন উচ্চশিক্ষিত এবং অভিজ্ঞ নেতার মুখ থেকে ‘নৈরাজ্যের অবসান’ শব্দবন্ধটি বের হওয়া কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। একে ঘিরেই এখন রাজ্যজুড়ে জল্পনা— তবে কি ক্ষমতা হারানোর পর এটাই দলটির চূড়ান্ত ভাঙনের এবং এক নতুন রাজনৈতিক যুগের সূচনা? আপাতত এই চরম অস্বস্তি এবং অন্দরের বিদ্রোহ সাবেক শাসক শিবির কীভাবে সামাল দেয়, সেটাই এখন দেখার।