প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দল এবং রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পরেই বিস্ফোরক সুখেন্দু শেখর রায়। ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস বাংলায় প্রথমবার ক্ষমতায় আসার ঠিক পরেই কালিম্পংয়ের ডেলো পাহাড়ে চিট ফান্ড মালিকদের সঙ্গে দলীয় নেতৃত্বের গোপন বৈঠক হয়েছিল বলে গুরুতর অভিযোগ তুললেন তিনি। শুধু তাই নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আঁকা ছবি ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকায় বিক্রি এবং তাঁকে ‘লিওনার্দো দা ভিঞ্চি’র সঙ্গে তুলনা করা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছেন এই প্রবীণ নেতা। আর সুখেন্দুবাবুর এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করেই এবার অলআউট আক্রমণে নামল ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)।
সুখেন্দুবাবুর দাবি, ২০১১ সালে রাজ্যে পরিবর্তনের পর এক চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে নেত্রীর আঁকা সাধারণ ছবি ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।তিনি কটাক্ষ করে বলেন, সেই সময় একদল অতি-উৎসাহী ব্যক্তি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিত্রশৈলীকে বিশ্বখ্যাত চিত্রশিল্পী ‘লিওনার্দো দা ভিঞ্চির’ সঙ্গে তুলনা করতে শুরু করেছিলেন। প্রবীণ এই নেতার অভিযোগ, ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর প্রথম নীতি নির্ধারণী বৈঠক কোনো সরকারি দপ্তরে হয়নি, হয়েছিল ডেলো পাহাড়ের বাংলোয়। তাঁর দাবি, সেখানে সারদা সহ বিভিন্ন চিট ফান্ডের মালিকরা উপস্থিত ছিলেন এবং তার পরেই ছবি বিক্রির এই হিড়িক শুরু হয়।
সোমবার সকালেই নয়া দিল্লিতে উপরাষ্ট্রপতির কাছে গিয়ে রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। ত্যাগ করেন দলের প্রাথমিক সদস্যপদও। বাংলায় তৃণমূলের বিগত ১৫ বছরের শাসনকালকে “অরাজক শাসন” বলে অভিহিত করেন সুখেন্দুবাবু। শিক্ষা থেকে রেশন দুর্নীতি এবং আরজি কর কাণ্ডে তৎকালীন ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভের কারণেই তাঁর এই দলত্যাগ বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, আগামী দিনে তৃণমূল দল হিসেবে “ছিন্নভিন্ন” হয়ে যেতে পারে।
সুখেন্দু শেখর রায়ের এই বিস্ফোরক স্বীকারোক্তির পর বর্তমান শাসকদল বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সারদা-রোজভ্যালির টাকা সাদা করতে এই ভুয়ো ছবি বিক্রির যে অভিযোগ তারা দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে করে আসছিল, আজ তা প্রমাণিত হলো। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের বক্তব্য, তৃণমূলের অন্দরমহলের সবচেয়ে প্রবীণ নেতাই যখন এই আর্থিক দুর্নীতির গোপন অধ্যায় ফাঁস করে দিয়েছেন, তখন কেন্দ্রীয় এজেন্সির উচিত এই বিষয়ে পুনরায় কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা।