প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি থানার বিতর্কিত সরকারি জমি জালিয়াতি মামলায় সুপ্রিম কোর্টে বড়সড় সাময়িক স্বস্তি পেলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক (PA) সুমিত রায়। শুক্রবার শীর্ষ আদালতে তাঁর আগাম জামিনের আবেদনের শুনানির পর আগামী বুধবার (১৯ আগস্ট ২০২৬) পর্যন্ত সুমিতের অন্তর্বর্তীকালীন রক্ষাকবচের মেয়াদ বাড়িয়ে দিল আদালত। ফলে এই সময়সীমার মধ্যে তাঁকে কোনোভাবেই গ্রেফতার করতে পারবে না তদন্তকারী সংস্থা। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চে আজ এই মামলার শুনানি প্রক্রিয়া চলে।
এদিন সুপ্রিম কোর্টে শুনানির শুরুতে সুমিত রায়ের পক্ষে প্রখ্যাত আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ আদালতে সওয়াল করেন। তিনি বেঞ্চকে জানান, তাঁর মক্কেল আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করছেন। বিগত ৬ দিন ধরে সুমিত রায় প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে তদন্তকারী সংস্থার মুখোমুখি হচ্ছেন এবং জিজ্ঞাসাবাদে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছেন।অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের পক্ষে উপস্থিত সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা অন্তর্বর্তী সুরক্ষার বিরোধিতা করে জানান, সুমিত রায় তদন্তে আদেও যথাযথ সহযোগিতা করছেন কি না, তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার কাছ থেকে এই বিষয়ে বিস্তারিত ‘স্ট্যাটাস রিপোর্ট’ বা অগ্রগতি রিপোর্ট তলব করার জন্য তিনি আদালতের কাছে কিছুটা সময় প্রার্থনা করেন। সলিসিটর জেনারেলের এই আবেদন মঞ্জুর করে সুপ্রিম কোর্ট মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী বুধবার পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করে এবং সেই দিন পর্যন্ত সুমিতের রক্ষাকবচ বহাল রাখে।
শালবনি থানা এলাকায় জাল নথির সাহায্যে সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল ও কোটি কোটি টাকায় তা বিক্রি করার অভিযোগে সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছিল। এই মামলায় কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ সুমিতের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দিলে তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। গত ৬ আগস্ট শীর্ষ আদালত সুমিতের গ্রেফতারির ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিয়ে তাঁকে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তদন্তে সহযোগিতার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশ মেনেই সুমিত রায় বর্তমানে ভবানী ভবনে সিআইডি (CID)-র জেরার মুখোমুখি হচ্ছেন। আগামী বুধবার সুপ্রিম কোর্টে তদন্তকারী সংস্থার জমা দেওয়া রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই সুমিতের আইনি ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।