প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজনীতির ময়দানে শুধু কথার ফুলঝুরি বা বাগযুদ্ধ নয়, এবার সরাসরি প্রশাসনিক সংস্কারের বড়সড় মাস্টারস্ট্রোক। আর তা নিয়েই এখন রাজ্যের অলিন্দে-কোলিন্দে তীব্র আলোড়ন। একদিকে বিগত আমলের ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির সমীকরণ, আর অন্যদিকে জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রকৃত যোগ্যতার নিরিখে তৈরি নতুন রূপরেখা। ঠিক এই প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখেই ৩ রা জুন নবান্ন থেকে সরাসরি এক দূরদর্শী প্রশাসনিক অবস্থান স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ঘোষণা করলেন রাজ্যের নতুন ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প— ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’। যেখানে প্রথম দফাতেই কোনো রকম টালবাহানা ছাড়া রাজ্যের ২৮ লক্ষ ২৫ হাজারের বেশি যোগ্য নারীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি পৌঁছে যাচ্ছে প্রতি মাসের আর্থিক অধিকারের টাকা।

আমাদের এই বঙ্গসমাজে একটা কথা খুব প্রচলিত আছে— “কার টাকা, কে দেয়, আর কে পায়?” প্রশ্নটা কিন্তু ঠিক এখানেই! আজ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যে ফাইলটা খুললেন, তা শুধু একটা নতুন সরকারি জনকল্যাণমুখী প্রকল্প নয়, ওটা আসলে সরকারি কোষাগারের অপচয় রুখে সাধারণ মানুষের করের টাকা সঠিক নাগরিকের হাতে পৌঁছে দেওয়ার এক দৃঢ় প্রশাসনিক সংকল্প। সরকারি প্রকল্পের তালিকা তৈরিতে যে সমস্ত খামখেয়ালিপনা ও গরমিল দেখা গিয়েছিল, তার অবসান ঘটাতে। মুখ্যমন্ত্রী আজ সরকারি তথ্যের ওপর ভিত্তি করে যে বাস্তব চিত্রটা সামনে এনেছেন, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি সাফ জানিয়েছেন, পূর্ববর্তী আমলের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ যোজনার তালিকায় এমন বহু ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল, যাঁরা নিয়মানুযায়ী ভোটার তালিকায় থাকারই যোগ্য নন। ভাবা যায়? যাঁরা এই দেশের আইনি নাগরিকই নন বা যাঁদের ভোটার তালিকায় কোনো অস্তিত্বই নেই, তাঁদের কাছেও যদি জনসাধারণের ট্যাক্সের টাকা চলে যায়, তবে তাকে সুশাসন বলা যায় কি?

মুখ্যমন্ত্রী আজ অত্যন্ত অনমনীয় ভাষায় স্পষ্ট করে দিলেন, নতুন সরকার এই নিয়মহীনতা বরদাস্ত করবে না। দেশের সার্বভৌমত্ব ও আইনি ব্যবস্থার মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে তিনি স্পষ্ট বলেছেন, “ভারতীয় নয়, এমন কেউ সরকারি অর্থ পাক, এটা আমরা চাই না।” তাহলে কি গরিব মানুষ বঞ্চিত হবেন? এখানেই প্রশাসনিক পরিপক্কতা! অনেকে হয়ত এখনই গেল-গেল রব তুলতে পারেন। প্রচার শুরু হতে পারে যে গরিব মানুষ বুঝি টাকা পাবেন না! কিন্তু আসল সত্যিটা একদম আলাদা। এখানেই শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক দূরদর্শিতা। তিনি কিন্তু এক ঝটকায় বা প্রতিহিংসা মূলকভাবে পুরনো আর্থিক সাহায্য বন্ধ করে দেননি। মা-বোনেদের সামাজিক নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে অত্যন্ত নিয়মতান্ত্রিক ও মার্জিত উপায়ে নতুন করে ফর্ম পূরণ ও তথ্য যাচাইয়ের কাজ শুরু করেছেন। ৩ মাসের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বা ডেডলাইন দেওয়া হয়েছে এবং প্রতি ৭ দিন অন্তর অন্তর এই তালিকা নিখুঁতভাবে স্ক্রুটিনি করে সংশোধন করা হবে। অর্থাৎ, সরকারি টাকা বিলির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনতে এক নিখুঁত আইনি ও প্রশাসনিক ফিল্টার তৈরি করা হলো।

দিনের শেষে রাজনীতির খেলা তো চলতেই থাকবে, তর্কও হবে বিস্তর। কিন্তু আসল বাস্তব এটাই যে, এবার থেকে বাংলার মা-বোনেদের অ্যাকাউন্টে কোনো খামখেয়ালিপনার খয়রাতি নয়, আইনসম্মতভাবে ঢুকবে তাঁদের যোগ্য অধিকারের পুরো টাকা।