প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-কথায় বলে, রাজার ধর্মে রাজনীতি থাকতে পারে, কিন্তু রাজধর্মের আসল কথাই হলো প্রজাকল্যাণ। আর ঠিক সেই পথেই যেন এক ঐতিহাসিক মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলল শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন বিজেপি সরকার। বুধবার নবান্নে মন্ত্রিসভার হাইভোল্টেজ বৈঠক শেষে রাজ্যের দুই হেভিওয়েট মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এবং অগ্নিমিত্রা পাল যৌথ সাংবাদিক বৈঠক থেকে বাংলার মানুষের জন্য যে ঘোষণাটি করলেন, এককথায় তা অভূতপূর্ব। পূর্বতন তৃণমূল জমানার ভোটব্যাঙ্কের সস্তা প্রচার আর কাটমানি জড়ানো ‘মা ক্যান্টিন’ এবার চিরতরে অতীত। আরও পরিচ্ছন্ন, আরও পুষ্টিকর এবং সম্পূর্ণ নতুন মোড়কে গরিব মানুষের পাত ভরাতে এবার বাংলায় আত্মপ্রকাশ করছে ‘মা আহার’।

এক নজরে নতুন রূপরেখা:
প্রকল্পের নতুন নাম: ‘মা আহার’। বরাদ্দ মূল্য: আগের মতোই মাত্র ৫ টাকা। পরিধি বিস্তার: ৩৯০টি থেকে বাড়িয়ে একধাক্কায় করা হলো ৫০০টি কেন্দ্র। মেনুর চমক: সপ্তাহে ২ দিন ডিম এবং ২ দিন মিলবে তাজা মাছ-ভাত।

তৃণমূল জমানার ‘মা ক্যান্টিন’ নিয়ে রাজ্যের মানুষের অভিযোগের অন্ত ছিল না। নামেই শুধু পাঁচ টাকা, অথচ বেশিরভাগ দিনই খাবার মিলত না, আর যা মিলত তার মান নিয়ে উঠত হাজারো প্রশ্ন। কিন্তু বর্তমান সরকার বুঝিয়ে দিল, অন্তরের সদিচ্ছা থাকলে কীভাবে প্রকৃত জনসেবা করা যায়। সাংবাদিক বৈঠকে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে জানান, “আগে মাত্র ৩৯০টি জায়গায় এই খাবার দেওয়া হতো। আমরা আরও ১১০টি নতুন এলাকাকে এর আওতায় নিয়ে আসছি। এবার থেকে রাজ্যের মোট ৫০০টি কেন্দ্র থেকে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে গরিব মানুষের হাতে এই আহার তুলে দেওয়া হবে।” শুধু নাম বদল বা কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানোই নয়, খাবারের পুষ্টিগুণেও আনা হচ্ছে এক বৈপ্লবিক বদল। এই বিষয়ে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, নিম্নবিত্ত পরিবারের মানুষের শরীরে প্রোটিনের অভাব মেটাতে এবার থেকে সপ্তাহে দু’দিন পাতে পড়বে ডিম এবং দু’দিন দেওয়া হবে সুস্বাদু মাছ। বাকি দিনগুলিতে থাকবে পুষ্টিকর নিরামিষ পদ। ভোজনরসিক বাঙালির পাতে মাত্র ৫ টাকায় মাছ-ভাত তুলে দেওয়া— এ কেবল এক সংবেদনশীল ও দূরদর্শী সরকারের পক্ষেই সম্ভব।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেই যেভাবে রাজধর্ম পালন করছে, তাতে স্পষ্ট যে বাংলায় এবার ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এর আসল অধ্যায় শুরু হয়ে গিয়েছে। কোনওরকম তোষণ বা ভাঁওতাবাজি নয়, খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের পেটে পুষ্টিকর অন্ন জোগানোই যে একটি সুস্থ সরকারের প্রধান কর্তব্য, তা আবারও বুক ঠুকে প্রমাণ করে দিল শুভেন্দুর মন্ত্রিসভা।