প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলায় ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পর নতুন বিজেপি সরকার গদিতে বসতেই তুঙ্গে উঠেছে নতুন প্রশাসনিক তৎপরতা। দিনকয়েক আগেই শপথ নিয়েছেন বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর সরকার বদলের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার রাজ্যবাসীর নজর কাড়ছে এক অভিনব বিষয়। রাজনৈতিক মহলের খবর, আগেকার জমানার চেনা ‘ডিম-ভাত’ নয়, আগামী ১ লা জুন থেকে বাংলার মানুষের পাতে সরাসরি পড়তে চলেছে বাঙালির অন্যতম প্রিয় আবেগ— মাছ-ভাত! তবে এই পদক্ষেপকে স্রেফ জনমোহিনী চমক হিসেবে দেখতে নারাজ ওয়াকিবহাল মহল। এর নেপথ্যে রয়েছে নতুন সরকারের এক গভীর প্রশাসনিক দূরদর্শিতা।

নির্বাচনী প্রচারের পর্বে বিরোধী শিবির বারবার অভিযোগ তুলেছিল যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে নাকি বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাস ধাক্কা খাবে। তবে নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তাঁর সরকার কোনো ভেদাভেদ না করে প্রতিটি সাধারণ মানুষের অন্ন, বস্ত্র ও পুষ্টির অধিকার নিশ্চিত করতে দায়বদ্ধ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন বিধায়কদের সাম্প্রতিক ‘মাছ-ভাত উৎসব’ এবং আগামী ১ লা জুন থেকে নামমাত্র মূল্যে পুষ্টিকর মাছ-ভাত দেওয়ার এই পরিকল্পনা আসলে সেই দীর্ঘদিনের অপপ্রচারের যোগ্য জবাব।

পূর্ববর্তী সরকারের আমলে ‘পিএম মৎস্য সম্পদা যোজনা’ সহ একাধিক কেন্দ্রীয় জনকল্যাণমুখী প্রকল্প সঠিক উপায়ে রূপায়িত হয়নি বলে অভিযোগ ছিল। শুভেন্দু অধিকারীর নতুন ডবল-ইঞ্জিন সরকার এবার এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলিকে সরাসরি কাজে লাগিয়ে রাজ্যে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে চলেছে। ফলে ভিন রাজ্যের ওপর নির্ভরতা কমবে। সস্তা রাজনীতির স্বার্থে ধার করে ঘি খাওয়ার পুরনো নীতি ঝেড়ে ফেলে, কীভাবে রাজস্বের অপচয় রুখে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে এই পুষ্টিকর খাবার সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, তার একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করছে নবান্ন। নামমাত্র ডিমের বদলে পাতে স্বাস্থ্যকর মাছের টুকরো তুলে দিয়ে নাগরিকদের পুষ্টির অধিকার নিশ্চিত করা নতুন ক্যাবিনেটের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

বিগত জমানার অনিয়ম ও পরিকাঠামোগত অভাবের কারণে অতীতে বহু ক্যান্টিন বন্ধের মুখে পড়েছিল। কিন্তু নতুন সরকারের এই ‘মাছ-ভাত’ পরিকল্পনা কোনো ক্ষণস্থায়ী চমক নয়, বরং এটি বাংলার নিজস্ব মৎস্য শিল্পের বিকাশ ও প্রান্তিক মানুষের সামাজিক সুরক্ষার এক দীর্ঘমেয়াদী ব্লু-প্রিন্ট হতে চলেছে। ১ লা জুন এই ব্যবস্থা পুরোদমে চালু হওয়ার পর এটি রাজ্যের স্বাস্থ্য ও অর্থনীতিতে কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আপামর বঙ্গবাসী।