প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়ের পর আজ বিধানসভায় ভবানীপুর কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবে শপথ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দেশের নির্বাচনী আইন অনুযায়ী একই সঙ্গে দুটি আসনের বিধায়ক পদে থাকা সম্ভব নয়। তাই নিয়ম মেনে মেদিনীপুরের হাইপ্রোফাইল ‘নন্দীগ্রাম’ আসন নিয়ে সেখানকার আবেগপ্রবণ জনতার উদ্দেশ্যে এক অত্যন্ত শক্তিশালী ও দূরদর্শী বার্তা দিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।আইনি বাধ্যবাধকতায় নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ ছাড়লেও, সেখানকার মানুষের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা যে বিন্দুমাত্র কমছে না, তা নিজের বক্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আজ সংবাদমাধ্যমের সামনে অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “নন্দীগ্রামের মানুষকে আগামী ৫ বছর আমি বুঝতে দেব না যে শুভেন্দু তাঁদের বিধায়ক নয়।” অর্থাৎ, খাতায়-কলমে পদত্যাগ করলেও নন্দীগ্রামের মানুষের দৈনন্দিন সুখ-দুঃখে তিনি আগের মতোই পাশে থাকবেন।তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বিধায়ক হিসেবে না হলেও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নন্দীগ্রামের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং আইনশৃঙ্খলার বিষয়টি তিনি নিজেই সরাসরি তদারকি করবেন। নির্বাচনের প্রচারে নন্দীগ্রামের মানুষের কাছে তিনি যে সমস্ত উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রতিটি কাজ অক্ষরে অক্ষরে সম্পন্ন করার বিষয়ে তিনি জনগণকে আশ্বস্ত করেছেন।
নন্দীগ্রাম আসনে আগামী দিনে নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেখান থেকে নতুন বিধায়ক নির্বাচিত হলেও, নন্দীগ্রামের মূল অভিভাবক এবং চালিকাশক্তি যে তিনিই থাকবেন, সেই রাজনৈতিক বার্তাও আজ তাঁর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে।
২০২৬ সালের নির্বাচনে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম—উভয় কেন্দ্র থেকেই বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন শুভেন্দু অধিকারী। জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী, ফল প্রকাশের পর নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে যে কোনো একটি আসন বেছে নেওয়া বাধ্যতামূলক। সেই সাংবিধানিক নিয়ম মেনেই তিনি ভবানীপুর আসনটি নিজের কাছে রেখে নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর এই মাস্টারস্ট্রোক বক্তব্য নন্দীগ্রামের সাধারণ মানুষের মনের সংশয় দূর করতে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা নেবে। একদিকে কলকাতার ভবানীপুর থেকে জিতে তিনি রাজ্য প্রশাসনের রাশ নিজের হাতে শক্ত রাখলেন, অন্যদিকে নন্দীগ্রামের মাটি ও মানুষের সঙ্গে তাঁর নাড়ির টান যে অপরিবর্তিত থাকছে, তা এই বক্তব্যের মাধ্যমে বিরোধীদেরও স্পষ্ট বুঝিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।