প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজধানী দিল্লিতে ঝোড়ো সফর জারি রেখেছেন পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গতকাল রাতে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে হাই-প্রোফাইল বৈঠকের পর আজ, শুক্রবার সাউথ ব্লকে এক নজিরবিহীন প্রশাসনিক তৎপরতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে জোর খবর, আজ কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের সদর দফতরে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের মতে, বাংলায় এক নতুন অর্থনৈতিক যুগের সূচনা করতে এই সম্ভাব্য বৈঠকটি অত্যন্ত বৈপ্লবিক ভূমিকা নিতে চলেছে। বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ এবং অর্থ মন্ত্রকের বিশ্বস্ত সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজ্যের কোষাগারের হাল ফেরাতে এবং থমকে থাকা উন্নয়নকে চিতার গতি দিতেই অর্থমন্ত্রীর দরবারে এই বিশেষ তদ্বিরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

সূত্রের খবর, এই সম্ভাব্য মেগা বৈঠকে মূলত তিনটি প্রধান অর্থনৈতিক স্তম্ভের ওপর জোর দেওয়া হতে পারে, যা বাংলার ভাগ্য বদলে দিতে পারে। পূর্বতন জমানার বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতার কারণে গ্রামীণ সড়ক, ১০০ দিনের কাজ বা পানীয় জলের মতো একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের যে বিপুল পরিমাণ অর্থ আটকে ছিল, তা দ্রুত রিলিজ করার বিষয়ে আইনি ও প্রশাসনিক রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। রাজ্যের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিকাঠামোকে নতুন করে দাঁড় করাতে এবং ভারী শিল্পের জন্য লজিস্টিক সাপোর্ট তৈরি করতে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে বিশেষ আর্থিক সহায়তার আবেদন জানাতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। বাংলার মহাসড়কগুলির ভোলবদল করতে এবং গ্রামীণ কানেক্টিভিটি বাড়াতে কেন্দ্রীয় বাজেটের বিশেষ অনুদান যাতে সরাসরি বাংলায় আসে, তার ব্লু-প্রিন্ট অর্থমন্ত্রীর সামনে পেশ করা হতে পারে।

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, মুখে শুধু ‘ডবল ইঞ্জিন’ স্লোগান নয়, কাজেও তার প্রতিফলন ঘটাতে মরিয়া নতুন মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্র ও রাজ্যের এই সম্ভাব্য সমন্বয় বাংলার সাধারণ মানুষের বঞ্চনার অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে একটি বড় পদক্ষেপ। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এই বৈঠকটি সফল হলে খুব দ্রুতই বাংলার জন্য বড়সড় কোনো আর্থিক প্যাকেজের রূপরেখা সামনে আসতে পারে।