প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-যে নন্দীগ্রামের রক্তক্ষয়ী আন্দোলন, পুলিশের গুলি আর জমির লড়াই একদা বাংলার রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল, আজ সেই নন্দীগ্রামের মাটি থেকে উঠে আসা জননেতাই বাংলার প্রশাসনিক প্রধান। আর আজ, শুক্রবার নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে দাঁড়িয়ে সেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দিলেন— শিল্পের জন্য জমি নিতে বাংলায় আর কোনো সংঘাত হবে না। নন্দীগ্রামের মতো গুলি না চালিয়েও যে বাংলায় বড় শিল্প আনা সম্ভব, সেই নতুন অধ্যায়েরই সূচনা করলেন তিনি।
বাম আমলে নন্দীগ্রাম কিংবা সিঙ্গুরে জোর করে জমি কেড়ে নেওয়ার যে মর্মান্তিক মাশুল বাংলাকে গুনতে হয়েছিল, তা ইতিহাস। পরবর্তী অধ্যায়েও জমি জট আর উগ্র রাজনীতির চোরাবালিতে আটকে ছটফট করেছে রাজ্যের শিল্পায়ন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আজ বুক ঠুকে এক নতুন বাস্তবকে সামনে আনলেন। তাঁর দাবি, আজ সময় বদলেছে। কোনো গায়ের জোর নয়, কোনো পুলিশি জুলুম নয়, মানুষ আজ নিজেরাই বোঝেন রাজ্যের যুবকদের রুটি-রুজির জন্য শিল্প কতটা জরুরি। তাই পশ্চিমবঙ্গের মানুষ আজ স্বতঃস্ফূর্তভাবে, সানন্দে এগিয়ে এসে শিল্পের জন্য জমি দিচ্ছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর আজকের বক্তব্যের সবচেয়ে তীক্ষ্ণ অংশটি ছিল জমি ও শিল্পের সমন্বয়। তিনি সাফ জানিয়েছেন, রক্তপাত বা আন্দোলনের নাটক ছাড়াই রাজ্যে বিনিয়োগের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব এবং তা করা হচ্ছে। স্রেফ সস্তা রাজনীতির স্বার্থে যারা এতদিন জমি আন্দোলনকে হাতিয়ার করে বাংলার যুবকদের কর্মসংস্থান আটকে রেখেছিল, তাদের মুখে আজ সপাটে চড় মারল নিউটাউনের এই মেগা মঞ্চ। বাংলায় শিল্প গড়তে জমি আর কোনোদিন দেওয়াল বা বাধা হয়ে দাঁড়াবে না, এই গ্যারান্টি আজ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
একদিকে কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ প্রয়াস, আর অন্যদিকে সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা— এই দুইয়ের মেলবন্ধনে পশ্চিমবঙ্গকে একটি সম্পূর্ণ কর্মসংস্থানমুখী ও শিল্পবান্ধব রাজ্য হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট করে দিলেন, উগ্রপন্থা কিংবা ল্যান্ড মাফিয়াদের চোখরাঙানি মুক্ত এক নতুন বাংলা আজ তৈরি হচ্ছে, যেখানে বিনিয়োগকারীরা সম্পূর্ণ নিরাপদে শিল্প গড়তে পারবেন।
ইতিহাসের এক অদ্ভুত সমীকরণ! যে নন্দীগ্রামের আন্দোলনের আগুন একদা শিল্পকে তাড়িয়েছিল, আজ সেই নন্দীগ্রামের ভূমিপুত্রের হাত ধরেই বাংলায় বুলেটমুক্ত, শান্তিপূর্ণ শিল্পায়নের নতুন সূর্যোদয় হতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রীর আজকের এই আত্মবিশ্বাসী বার্তা কি পারবে বাংলার যুবকদের পরিযায়ী শ্রমিকের তকমা ঘুচিয়ে ঘরের মাঠে কর্মসংস্থান এনে দিতে? বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারের মঞ্চ আজ সেই বড় আশার আলোই জ্বালিয়ে দিয়ে গেল।