প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-নবান্ন থেকে কড়া নজরদারির পর এবার সরাসরি তারাতলার দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিকেল পৌনে ৫ টা নাগাদ ব্রেসব্রিজের কাছে ভেঙে পড়া ওই নির্মীয়মাণ গোডাউনে পৌঁছান তিনি। নবান্নে বসে দীর্ঘক্ষণ পরিস্থিতি মনিটরিং করার পর, তাঁর পূর্বনির্ধারিত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক বৈঠক তড়িঘড়ি বাতিল করে সশরীরে স্পটে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী।
দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছেই মুখ্যমন্ত্রী সেখানে উপস্থিত পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ এবং পুলিশ কমিশনারসহ শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন। উদ্ধারকাজের বর্তমান পরিস্থিতি ঠিক কী, লোহার বিশাল পরিকাঠামোর নিচে আর কতজন আটকে রয়েছেন—সেই সব বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ খোঁজ নেন তিনি। যারা নিজের জীবন বাজি রেখে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন, সেই বিপর্যয় মোকাবিলা দল ও সেনার আধিকারিকদের থেকেও সরাসরি ইনপুট নেন মুখ্যমন্ত্রী।
এই নির্মাণকাজটি কীভাবে চলছিল এবং এত বড় লোহার কাঠামো ধসে পড়ার পেছনে কাদের গাফিলতি রয়েছে, সেই সংক্রান্ত প্রাথমিক তথ্যও সংগ্রহ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, মানুষের জীবন নিয়ে এই ছিনিমিনি খেলা এবং পরিকাঠামোগত গাফিলতি রাজ্য সরকার কোনোভাবেই বরদাস্ত করবে না এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সেনা এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর যৌথ প্রচেষ্টায় ধ্বংসস্তূপ থেকে এখনও পর্যন্ত ১৬ জন শ্রমিককে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া শ্রমিকদের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় গ্রিন করিডোর তৈরি করে তাঁদের এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তারাতলার দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর, আহত শ্রমিকদের চিকিৎসার খোঁজ নিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি এসএসকেএম হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছেন বলে নবান্ন সূত্রে খবর।