প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২১ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ের চোট এবং তাঁর চিকিৎসা সংক্রান্ত গোপন মেডিকেল রিপোর্ট ফাঁস হওয়া নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার বিকেলে নবান্নের সভাঘরে আয়োজিত এক জরুরি সাংবাদিক বৈঠক থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফ থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে পাঠানো আইনি নোটিশের জবাবে নবান্ন থেকে রুদ্ধশ্বাস পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, “বেশি ঘাঁটাঘাঁটি বা চ্যালেঞ্জ করলে আসল এক্স-রে (X-Ray) এবং এমআরআই (MRI) প্লেট ও রিপোর্টও সাধারণ মানুষের সামনে এনে দেবো! তখন আর বাড়ি থেকে বের হতে পারবেন না।”
গত ৩ অক্টোবর (শনিবার) নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ২০২১ সালের ১১ মার্চের ‘বাঙুর ইনস্টিটিউট অফ Neurosciences’-এর একটি রেডিওলজি রিপোর্ট পেশ করেন। সেই মেডিকেল নথি তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন যে, রিপোর্টে স্পষ্ট লেখা ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে কোনো ফ্র্যাকচার বা হাড় ভাঙার বা হাড় সরে যাওয়ার কোনো প্রমাণ মেলেনি (NO EVIDENCE OF FRACTURE OR DISLOCATION)। তিনি অভিযোগ করেন, লোহার বিমে গাড়ির দরজা লেগে সামান্য আঘাত লাগাকে ‘পা ভেঙে যাওয়া’ বলে প্রচার করে ভোট পাওয়ার তাগিদে হুইলচেয়ারে ঘুরে তৎকালীন সময়ে নন্দীগ্রাম তথা গোটা রাজ্যবাসীকে প্রতারণা করা হয়েছিল। এই পুরো ঘটনাটির সত্যতা খতিয়ে দেখতে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে ইতিমধ্যেই সিআইডি (CID) তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই চাঞ্চল্যকর দাবির পরেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য ভবন, এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালের ডিরেক্টর ডাঃ মণিময় বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বাঙুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরো সায়েন্সেসের আধিকারিকদের একটি কড়া আইনি নোটিশ পাঠান প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। মমতার আইনজীবীর তরফ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে: একজন রোগীর সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য (Medical Records) কীভাবে এবং কার অনুমতিতে প্রকাশ্যে আনা হলো? ভারতীয় সংবিধানের Article 21 (ব্যক্তিগত গোপনীয়তার মৌলিক অধিকার) এবং ‘ইন্ডিয়ান মেডিকেল কাউন্সিল রেগুলেশন ২০০২’ লঙ্ঘন করে কীভাবে এই নথি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর হাতে পৌঁছাল? কোনো তদন্তকারী সংস্থা যদি আইন মেনে নথি সংগ্রহও করে, তার অর্থ এই নয় যে তা সাধারণ মানুষের সামনে বা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করা যায়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আইনি চিঠির পাল্টা জবাবে বিন্দুমাত্র পিছু হঠতে নারাজ রাজ্য প্রশাসন। সোমবার শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, রোগীরা এক্স-রে প্লেট নিজে পেয়ে যান, ফলে এটি পুরোপুরি গোপন কিছু নয়। তাছাড়া মিথ্যে কথা বলে যাঁরা নন্দীগ্রাম ও বাংলার মানুষকে অপমান করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে তিনি সম্পূর্ণ প্রস্তুত।মুখ্যমন্ত্রী আরও যোগ করেন, বর্তমানে রাজ্যে উপনির্বাচনের কারণে নির্বাচনী আচরণবিধি (Model Code of Conduct) জারি রয়েছে, তাই তিনি নিয়মের খাতিরে বড় কোনো অ্যাকশন নিচ্ছেন না। তবে আগামী ৯ অক্টোবরের পরেই আসল আইনি এবং প্রশাসনিক অ্যাকশন শুরু হবে। একটি পুরোনো মেডিকেল রিপোর্টকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এই আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।