প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মুম্বই সফর এবং মুকেশ আম্বানির বাসভবন ‘অ্যান্টিলিয়া’-তে হওয়া মেগা বৈঠকটি কেবল শিল্পের বাজারে বড় খবর নয়, এটি আসলে বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক লাইনে এক মস্ত বড় ফাটল ধরিয়ে দিয়েছে। নবান্নে ক্ষমতা বদলের পর থেকেই বর্তমান শাসকদল দাবি করে আসছিল—”বাংলা থেকে বিগত জমানার সিন্ডিকেট রাজ, তোলাবাজি এবং কাটমানি সংস্কৃতি পুরোপুরি বন্ধ করা হয়েছে।” এতদিন বিরোধীরা এই দাবিকে রাজনৈতিক প্রচার বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও, দেশের এক নম্বর শিল্পপতি মুকেশ আম্বানি স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করায় নবান্নের সেই ‘স্বচ্ছ ও নিরাপদ’ পরিবেশের দাবিতে একপ্রকার সিলমোহর পড়ে গেল বলে মনে করছে রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বড় কর্পোরেট হাউসগুলি যেকোনো রাজ্যে বিনিয়োগ করার আগে সেখানকার রাজনৈতিক স্থায়িত্ব এবং আইন-শৃঙ্খলার পরিবেশ সবচেয়ে বেশি খতিয়ে দেখে। আম্বানিদের এই ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার অর্থই হলো, নবান্নের নতুন ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের ওপর দেশের শীর্ষ শিল্পপতিদের আস্থা তৈরি হয়েছে, যা বিরোধীদের প্রধান হাতিয়ারকে এক ঝটকায় স্তব্ধ করে দিয়েছে।
বিগত জমানার একের পর এক শিল্প সম্মেলনে (বিজনেস সামিট) হাজার হাজার কোটি টাকার মউ (MoU) স্বাক্ষর হলেও বাস্তবে বড় বড় শিল্প গোষ্ঠীগুলি বাংলায় কাজ শুরু করতে ভয় পেত। তার প্রধান কারণ ছিল স্থানীয় স্তরের রাজনৈতিক নেতাদের তোলাবাজি ও সিন্ডিকেটের জুলুম। নবান্নের ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মুকেশ আম্বানিকে স্পষ্ট ভাষায় আশ্বস্ত করেছেন যে, তাঁর সরকার রাজ্যে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে চলছে। রিলায়েন্সের (Reliance) ৫জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ বা বায়োগ্যাস প্রকল্পের ক্ষেত্রে কোনো স্তরেই রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা তোলাবাজির দাপট সহ্য করা হবে না।
এই মেগা বৈঠকের পর স্বাভাবিকভাবেই এক চরম রাজনৈতিক অস্বস্তিতে পড়েছে বিরোধী দলগুলি। এতদিন যারা নতুন সরকারকে “শিল্পের পরিবেশ ধরে রাখতে ব্যর্থ” বলে দেওয়াল লিখন করছিল, তারা এখন আম্বানি-শুভেন্দুর এই হাইপ্রোফাইল করমর্দন নিয়ে কী প্রতিক্রিয়া দেবে, তা ভেবে পাচ্ছে না। তারা যদি এই বিনিয়োগের বিরোধিতা করে, তবে সরাসরি ‘বাংলার উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের বিরোধী’ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে যাবে। আর যদি চুপ থাকে, তবে নবান্নের ‘তোলাবাজি মুক্ত বাংলা’র দাবিকে পরোক্ষভাবে মেনে নিতে হবে। বিরোধীদের এই উভয়সংকট বা রাজনৈতিক ফাঁদে ফেলাই ছিল শুভেন্দুর অন্যতম বড় কৌশল।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মুকেশ আম্বানির মতো দেশীয় তথা আন্তর্জাতিক স্তরের একজন বিজনেস টাইকুন যখন নবান্নের নতুন প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি হাত মেলান, তখন তা গোটা দেশের মাঝারি ও ছোট শিল্পপতিদের মনেও এক বিশাল ভরসার বার্তা পাঠায়। শুভেন্দু সরকার এই বৈঠককে হাতিয়ার করে এটাই প্রমাণ করতে চাইছে যে, বর্তমান বাংলায় ব্যবসা করা কেবল সুরক্ষিতই নয়, বরং অত্যন্ত লাভজনক। অ্যান্টিলিয়ার এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক তাই কেবল পুঁজি আনার চুক্তি নয়, এটি আসলে বাংলার বুক থেকে “কাটমানি ও সিন্ডিকেট রাজ”-এর দুর্নাম ধুয়ে ফেলে এক সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা।