প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মুম্বই সফর এবং মুকেশ আম্বানির বাসভবন ‘অ্যান্টিলিয়া’-তে হওয়া মেগা বৈঠকটি বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের জন্ম দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গের আঞ্চলিক দল এবং বাম-কংগ্রেস শিবিরের একটি প্রধান রাজনৈতিক হাতিয়ার ছিল—”কেন্দ্রের বিজেপি সরকার সমস্ত বড় শিল্প, চাকরি ও বিনিয়োগ শুধু গুজরাট বা মহারাষ্ট্রে নিয়ে যায়, আর বাংলাকে বঞ্চিত করে।” কিন্তু রিলায়েন্স (Reliance) গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করে শুভেন্দু অধিকারী বিরোধীদের সেই দীর্ঘদিনের ‘বঞ্চনা তত্ত্ব’ এক ঝটকায় ধূলিসাৎ করে দিলেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠকের নেপথ্যে রয়েছে এক সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক কৌশল। শুভেন্দু অধিকারী খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘ভাইব্রেন্ট গুজরাট’ (Vibrant Gujarat) মডেলের ধাঁচে এবার ‘ভাইব্রেন্ট বেঙ্গল’-এর ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করছেন।
এতদিন বিরোধীরা প্রচার করত যে, দেশের শীর্ষ শিল্পপতিরা কেবল হিন্দি বলয় বা পশ্চিম ভারতের রাজ্যগুলিতেই বিনিয়োগ করতে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন। কিন্তু নবান্নে ক্ষমতা বদলের পর চিত্রটা দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। আম্বানি পরিবারের সঙ্গে শুভেন্দুর এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক প্রমাণ করে দিল যে, সঠিক ও স্থিতিশীল রাজনৈতিক নেতৃত্ব থাকলে দেশের এক নম্বর শিল্প গোষ্ঠীও বাংলায় মেগা বিনিয়োগ করতে দু’বার ভাববে না। শুভেন্দু মূলত মুকেশ আম্বানিকে এই বার্তাই দিয়েছেন যে, ব্যবসার পরিকাঠামো এবং সুরক্ষার দিক থেকে বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ এখন গুজরাটের মতোই নির্ভরযোগ্য।
এই মেগা বৈঠকের পর স্বাভাবিকভাবেই ব্যাকফুটে চলে গিয়েছে বিরোধী শিবির। কারণ, রিলায়েন্সের হাত ধরে বাংলায় যদি তথ্যপ্রযুক্তি, ডিজিটাল পরিকাঠামো বা গ্রিন এনার্জির মতো ক্ষেত্রে হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ আসে, তবে বিরোধীদের “বাঙালি আবেগ” এবং “আঞ্চলিক বৈষম্য”-এর কার্ড খেলার আর কোনও জায়গা থাকবে না। নবান্ন এবার বুক ফুলিয়ে প্রচার করতে পারবে যে, যারা এতদিন বাংলাকে শিল্পের শ্মশান বলত, তাদের মুখে চুনকালি দিয়ে দেশের সবচেয়ে বড় কর্পোরেট হাউস এখন বাংলার যুবকদের কর্মসংস্থানের গ্যারান্টি দিচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, শুভেন্দু অধিকারী এই বৈঠকের মাধ্যমে দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকেও একটি বড় বার্তা দিলেন। তিনি বুঝিয়ে দিলেন, পূর্ব ভারতে বিজেপির জয়যাত্রাকে ধরে রাখতে গেলে পশ্চিমবঙ্গকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা অত্যন্ত জরুরি। আর সেই লক্ষ্যেই গুজরাট বা মহারাষ্ট্রের লবির বাইরে গিয়ে সরাসরি আম্বানিদের বাংলায় টেনে আনা বর্তমান রাজ্য সরকারের এক মস্ত বড় মাস্টারস্ট্রোক। সব মিলিয়ে, অ্যান্টিলিয়ার এই হাইভোল্টেজ বৈঠক আগামী দিনে বাংলার বুক থেকে পরিযায়ী শ্রমিকের তকমা ঘুচিয়ে এক নতুন ‘শিল্প বিপ্লব’ আনতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার।