প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাতের নিস্তব্ধতা চিরে ধেয়ে এল তপ্ত সিসা, আর তার আঘাতেই স্তব্ধ হয়ে গেল একটি তাজা প্রাণ। উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে এক রক্তঝরা অধ্যায়ের সাক্ষী থাকল রাজ্য রাজনীতি। পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হলো বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘদিনের ছায়াসঙ্গী তথা আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে। বুধবার রাতের এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড ঘিরে উত্তাল গোটা রাজ্য।
সূত্রের খবর, বুধবার রাতে দোহরিয়া মোড় এলাকায় নিজের গন্তব্যে ফিরছিলেন প্রাক্তন বায়ুসেনা কর্মী চন্দ্রনাথ রথ। অভিযোগ, ওত পেতে থাকা একদল সশস্ত্র দুষ্কৃতী অতর্কিতে তাঁর পথ আটকায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁকে লক্ষ্য করে ধেয়ে আসে একের পর এক বুলেট। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তাঁর দেহহীন নিথর শরীর এখন বাংলার রাজনৈতিক হিংসার এক করুণ দলিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিজের বিশ্বস্ত সঙ্গীকে হারিয়ে শোকবিহ্বল বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এই ঘটনাকে নিছক অপরাধ হিসেবে নয়, বরং এক ‘সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ হিসেবে দেখছে গেরুয়া শিবির। দলের পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র ধিক্কার জানিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তোলা হয়েছে। অন্যদিকে, প্রশাসন বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিলেও, এই নৃশংসতা সাধারণ মানুষের মনে এক গভীর নিরাপত্তাহীনতার প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
ইতিমধ্যেই বারাসাত জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সংগৃহীত হচ্ছে সিসিটিভি ফুটেজ, চলছে প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান গ্রহণ। তবে প্রশ্ন উঠছে, প্রকাশ্য রাস্তায় এমন দুঃসাহসিক অপারেশন চালাল কারা? নেপথ্যে কি কোনো গভীর রহস্য লুকিয়ে আছে? উত্তর খুঁজছে পুলিশ।
বাংলার রাজনীতির আঙিনায় কি তবে বুলেটের ভাষাই শেষ কথা বলবে? মধ্যমগ্রামের এই রক্তক্ষরণ সেই বিতর্ককেই ফের উসকে দিল।