প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-শপথ অনেক আগেই হয়েছিল, আর গতকাল নবান্ন থেকে ফাইনাল সিলমোহর পড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ক্যাবিনেটে অর্থ দপ্তরের মত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং চ্যালেঞ্জিং দায়িত্ব পেয়েছেন পদ্মভূষণ প্রাপ্ত আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অর্থনীতিবিদ স্বপন দাশগুপ্ত। আর দপ্তর পাওয়ার ২৪ ঘণ্টাও কাটেনি, ফাইল বগলে সোজা শিলিগুড়ির উত্তরকন্যায় এসে ম্যারাথন বৈঠকে বসে পড়লেন নতুন অর্থমন্ত্রী! একেই বলে প্রকৃত জনসেবা এবং রাজধর্ম! গতি দেখে বিরোধীদের বুক কাঁপতে বাধ্য। তবে প্রশ্ন হলো, এই এক্সপ্রেস গতির রহস্যটা কী? উত্তর স্পষ্ট—বিগত সরকারের ধ্বংস করে যাওয়া অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে শুভেন্দু সরকারের এই আন্তরিক সদিচ্ছা এর আগে বাংলা কখনো দেখেনি।

বিগত সরকারের লাগামহীন খয়রাতি, দুর্নীতি আর প্রাতিষ্ঠানিক লুটপাটের জেরে রাজ্যের কোষাগার এখন আক্ষরিক অর্থেই শূন্য। ঋণের পাহাড় ঘাড়ে দিয়ে গেছে আগের জমানা। কিন্তু এই রুক্ষ, কঠিন দেউলিয়া বাস্তবকে ভয় পাননি নতুন অর্থমন্ত্রী। শিলিগুড়িতে পা দিয়েই তিনি শুনিয়েছেন এক যুগান্তকারী অর্থনৈতিক দর্শনের কথা—”জনগণের ওপর বাড়তি কর না বাড়িয়েই ফাঁকফোকর বন্ধ করে রাজ্যের রাজস্ব বাড়ানো হবে।” একেই বলে ক্ষুরধার বুদ্ধিসম্পন্ন অর্থমন্ত্রীর মাস্টারস্ট্রোক! যে রাজ্যে বিগত দেড় দশকে তোলাবাজি আর সিন্ডিকেট রাজের কারণে শিল্প আসেনি, সেখানে স্বপনবাবুর এই নয়া ইকোনমিক্স করের বোঝা না বাড়িয়েই রাজ্যের আয় বাড়াবে। দিল্লির অলিন্দে অর্থনীতির জটিল পাঠ চুকিয়ে আসা এই বিদগ্ধ মানুষটি যে খাতা-কলমের হিসাবের বাইরে গিয়ে বাংলার মাটিকে চেনেন, তা তাঁর এই প্রথম সিদ্ধান্তেই প্রমাণিত।

উত্তরবঙ্গের ক্ষোভ দীর্ঘদিনের। তরাই, ডুয়ার্স থেকে পাহাড়—নূন্যতম মজুরির দাবিতে বছরের পর বছর ধরে কেঁদেছেন চা শ্রমিকরা। বন্ধ বাগানের শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ায়নি আগের সরকার। কিন্তু গতকাল দপ্তর পাওয়ার পর আজই উত্তরকন্যার এসি ঘরে বসে সেই শ্রমিকদের প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে প্রাক-বাজেট বৈঠক করতে পারেন মন্ত্রী মশাই। কেন্দ্রীয় অনুদানের সঠিক ব্যবহার এবং ডবল ইঞ্জিন সরকারের সুফল যে এবার সরাসরি উত্তরবঙ্গের ঘরে ঘরে পৌঁছাবে, সেই রোডম্যাপ তৈরি হয়ে গেল আজই। শুভেন্দুর ‘পরিবর্তিত বাংলা’র স্বপ্ন যে স্রেফ স্লোগান নয়, বরং উত্তরবঙ্গের বঞ্চনা দূর করার এক বাস্তব অঙ্গীকার, তা প্রমাণের আর বাকি থাকে না।

গতকাল দায়িত্ব নিলেন, আর আজই উত্তরবঙ্গে এসে বৈঠক করলেন। একেই বলে কাজের সরকার, অ্যাকশন ওরিয়েন্টেড সরকার! আগামী ২০ জুন যখন রাজ্য বাজেট বিধানসভায় পেশ হবে, তখন উত্তরবঙ্গের মানুষ স্রেফ অঙ্কের ভেল্কিবাজি দেখবে না, দেখবে ডবল ইঞ্জিন সরকারের দেওয়া বাস্তব বরাদ্দের খতিয়ান। কর না বাড়িয়ে কীভাবে দেনার পাহাড় কেটে রাজ্যকে সোনার বাংলায় রূপান্তর করা যায়, তার জাদুর কাঠি আজ উত্তরকন্যা থেকেই ঘুরিয়ে দিলেন অর্থমন্ত্রী। নবান্নে ক্ষমতার এই পরিবর্তন যে উত্তরবঙ্গের ভাগ্য বদলাতে চলেছে, তা আজ শিলিগুড়িবাসী নিজের চোখে দেখল। অর্থমন্ত্রী মহোদয়, আপনার এই ঐতিহাসিক সদিচ্ছাকে বাংলার মানুষ স্যালুট জানাচ্ছে।