প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দুর্নীতি এবং সমাজবিরোধীদের বিরুদ্ধে এবার বাংলায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি ও তুষ্টিকরণের দিন শেষ করে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবার খাস কলকাতায় নামল ‘বুলডোজার’। তিলজলার চামড়ার গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনার পর ২৪ ঘণ্টাও কাটল না, তার আগেই মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে ওই বহুতলের সমস্ত বেআইনি কাঠামো। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের ধাঁচেই এবার পশ্চিমবঙ্গেও বেআইনি সাম্রাজ্য ধূলিসাৎ করতে এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
গত মঙ্গলবার তিলজলার জি জে খান রোডের একটি চামড়ার গুদামে বিধ্বংসী আগুন লাগে। বিষাক্ত ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে প্রাণ হারান ২ জন নিরীহ শ্রমিক। ঘটনা জানা মাত্রই কড়া অবস্থান নেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর নির্দেশে গঠিত বিশেষ তদন্ত কমিটির রিপোর্টে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য— ওই বহুতলটির কোনও অনুমোদিত প্ল্যান ছিল না, ছিল না কোনও ফায়ার সেফটি লাইসেন্স বা বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ। সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে প্রশাসনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চলছিল এই কারখানা।
তদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরেই মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বরদাস্ত করা হবে না।” তাঁর এই কড়া বার্তার পরেই অ্যাকশনে নামে প্রশাসন। বেআইনি কারখানা ও বহুতলের দুই মালিককে ইতিমধ্যেই পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। কলকাতা পুরসভা (KMC) ও কেএমডিএ (KMDA)-র যৌথ উদ্যোগে তিলজলায় ওই বেআইনি বহুতল ভাঙতে বুলডোজার (আর্থ মুভার) নামানো হয়েছে। এলাকায় যাতে কোনওরকম আইন-শৃঙ্খলার অবনতি বা উচ্ছেদ অভিযানে বাধা না আসে, তার জন্য পুলিশ ও পুরসভার পাশাপাশি ঘটনাস্থলে নামানো হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। সিইএসসি ও পুরসভাকে ওই ভবনের জল ও বিদ্যুৎ সংযোগ চিরতরে কেটে দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
কেবল তিলজলাই নয়, কসবা, তোপসিয়া, মোমিনপুর ও ইকবালপুরের মতো বিস্তীর্ণ এলাকায় যেখানে যেখানে সিন্ডিকেট বা বেআইনি কারখানা গজিয়ে উঠেছে, সেগুলির ওপর নজরদারি চালানোর কড়া নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিষ্কার বার্তা দেওয়া হয়েছে, অপরাধী বা বেআইনি কারবারী যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, মোদী-যোগীদের ডবল ইঞ্জিন মডেলের মতই পশ্চিমবঙ্গেও এবার আইনের বুলডোজার চলবে সমান্তরালভাবে। তিলজলার এই ‘বুলডোজার অ্যাকশন’ আসলে বাংলায় তৈরি হওয়া নতুন সুশাসনেরই এক জ্বলন্ত নিদর্শন।