প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে নবান্নের মসনদ ভারতীয় জনতা পার্টির হাতে আসতেই এবার দেশের সর্বোচ্চ পঞ্চায়েত অর্থাৎ লোকসভাতেও তৃণমূল কংগ্রেসে নজিরবিহীন ধস নামল! দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় সংবাদমাধ্যমগুলির বিস্ফোরক দাবি—পিসি-ভাইপোর একনায়কতন্ত্র ও পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন দলের দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ১৯ জন সাংসদ। দলত্যাগ বিরোধী আইনের আইনি জটিলতা এড়াতে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই ‘ম্যাজিক ফিগার’ ছুঁয়ে লোকসভায় পৃথক সংসদীয় ব্লক তৈরি করে মোদীজির উন্নয়ন যজ্ঞে শামিল হতে চেয়েছেন এই বিদ্রোহী সাংসদরা।
জাতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই দলের অন্দরে বহিরাগত এজেন্সির খবরদারি এবং দুর্নীতি নিয়ে ক্ষোভ জমছিল। সম্প্রতি রাজ্যসভা থেকে প্রবীণ নেতা সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইকের ইস্তফা দেওয়ার ঘটনাটি বাকি সাংসদদের বিদ্রোহ করতে চূড়ান্ত অক্সিজেন জোগায়। কালীঘাটের ঘুম উড়িয়ে দিয়ে জাতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়া সেই ১৯ জন সাংসদের সম্পূর্ণ তালিকা নিচে দেওয়া হলো। স্পিকারের দরবারে প্রথম দফায় সই করা ১৪ ‘বিদ্রোহী’- ১. কাকলি ঘোষদস্তিদার (বারাসাত — যিনি এই শিবিরের নেতৃত্বে রয়েছেন বলে খবর) ২. শতাব্দী রায় (বীরভূম)৩. বাপি হালদার (মথুরাপুর) ৪. ড. শর্মিলা সরকার (বর্ধমান পূর্ব) ৫. প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় (হাওড়া) ৬. জগদীশ চন্দ্র বর্মা বাসুনিয়া (কোচবিহার) ৭. অসিত কুমার মাল (বোলপুর) ৮. অরূপ চক্রবর্তী (বাঁকুড়া) ৯. খলিলুর রহমান (জঙ্গিপুর) ১০. আবু তাহের খান (মুর্শিদাবাদ) ১১. কালীপদ সোরেন (ঝাড়গ্রাম) ১২. দীপক অধিকারী (দেব) (ঘাটাল) ১৩. জুন মালিয়া (মেদিনীপুর) ১৪. পার্থ ভৌমিক (ব্যারাকপুর)
পরে যোগ দিলেন যে ৫ জন ১৫. রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় (হুগলি) ১৬. সায়নী ঘোষ (যাদবপুর) ১৭. ইউসুফ পাঠান (বহরমপুর) ১৮. মিতালি বাগ (আরামবাগ) ১৯. মালা রায় (কলকাতা দক্ষিণ)
রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভায় তৃণমূলের মোট আসন সংখ্যা ২৮টি। সংবিধানের দশম তফসিল অনুযায়ী, কোনো দলের দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ যদি আলাদা গোষ্ঠী তৈরি করেন, তবে তাঁদের সাংসদ পদ খারিজ হয় না। সেই আইনি রক্ষাকবচ নিশ্চিত করেই বারাসাতের সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদারের নেতৃত্বে ঠিক ১৯ জন সাংসদ একজোট হয়ে স্পিকারের দরবারে সই জমা দিয়েছেন, যা পিসি-ভাইপোর দলের কফিনে শেষ পেরেক হতে চলেছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।