প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-চোরের মায়ের বড় গলা বোধহয় একেই বলে! গতকাল হালিশহরের মাটিতে সাধারণ মানুষের জুতো-কাদা আর তীব্র ‘চোর’ স্লোগান শুনে রীতিমতো পিঠ বাঁচিয়ে পালানো তৃণমূল কংগ্রেস এখন নিজেদের মান বাঁচাতে রাজ্য জুড়ে মেগা আন্দোলনের ডাক দিচ্ছে। তৃণমূলের অফিশিয়াল এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেল থেকে একের পর এক পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নাকি পরিকল্পিতভাবে খুনের চেষ্টা করা হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আবার একধাপ এগিয়ে দাবি করে বসেছেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর রাজত্বে নাকি বাংলায় ‘মাফিয়ারাজ’ চলছে! নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে তাঁরা এখন রাজ্যের ডিজি (DG) ও সিপি (CP)-র পদত্যাগ দাবি করছেন।
যে দলটা বিগত দেড় দশক ধরে সিন্ডিকেট রাজ, বালি পাচার, কয়লা পাচার আর শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারির মাধ্যমে গোটা বাংলাকে মাফিয়াদের চারণভূমি বানিয়ে রেখেছিল, আজ ক্ষমতার গদি চলে যেতেই তাদের মুখে ‘মাফিয়ারাজ’ শব্দটা শুনলে বাংলার মানুষ হাসবে নাকি কাঁদবে, তা বুঝতে পারছে না! ধৃত এক ব্যক্তির পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সস্তা রাজনীতির পুঁজি করতে গিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী। কিন্তু হালিশহরের জাগ্রত আমজনতা যখন সশরীরে চুরির হিসাব চাইতে রাস্তায় নেমে তাড়া করল, তখন সেই ধমক খেয়ে এখন মান বাঁচাতে আন্দোলনের সস্তা নাটক করতে হচ্ছে জোড়াফুল শিবিরের নেতাদের।
তৃণমূল নেতারা এখন রাজ্যের ডিজি আর সিপি-র পদত্যাগ চাইছেন? প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করে, যখন একের পর এক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে আপনাদের দলের মন্ত্রী-সান্ত্রিরা জেলে যাচ্ছিলেন, যখন আর জি কর কাণ্ডের মতো নারকীয় ঘটনার পর গোটা বাংলা ফুঁসছিল, তখন কতজন নৈতিকতার খাতিরে পদত্যাগ করেছিলেন? তখন তো প্রাক্তনেরা পুলিশকে ঢাল বানিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠি চালিয়েছিলেন! আর আজ সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিবাদ করতেই আপনাদের ‘মাফিয়ারাজ’ মনে পড়ে গেল?
বাংলার মানুষ আপনাদের এই ছদ্মবেশী কান্না আর বিশ্বাস করে না। হালিশহরের কাদা-লেপা গাড়ির কাচ প্রমাণ করে দিয়েছে যে, তৃণমূলের পায়ের তলার মাটি এখন সম্পূর্ণ উধাও। আন্দোলন আপনারা যতই করুন আর কান্নাকাটি যতই করুন না কেন, কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি আর অপশাসনের পর আমজনতার এই তীব্র জনরোষের হাত থেকে বাঁচার পথ কিন্তু আর নেই!