প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
গত কয়েকদিন ধরে ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে ও সোশ্যাল মিডিয়ায় একটিই গুঞ্জন সজোরে প্রচার করা হচ্ছিল— “হিরণ চট্টোপাধ্যায়কে আর গুরুত্ব দিচ্ছে না বিজেপি, ২০২৬-এর লড়াইয়ে তিনি ব্রাত্য।” শাসকের ঘনিষ্ঠ মহল যখন হিরণের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে হাসাহাসি শুরু করেছিলেন, ঠিক তখনই বৃহস্পতিবার বিজেপির দ্বিতীয় প্রার্থী তালিকা প্রকাশ পেতেই সব হিসাব উল্টে গেল। খড়গপুর সদরের বিদায়ী বিধায়ক হিরণকে নিয়ে তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ মহলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে, দল তাঁকে টিকিট দেবে না। কিন্তু বিজেপি নেতৃত্ব হিরণের ওপর আস্থা বজায় রেখে তাঁকে হাওড়ার শ্যামপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি তৃণমূলের কুৎসা রাজনীতির বিরুদ্ধে বিজেপির একটি মোক্ষম জবাব।

তৃণমূলের পক্ষ থেকে জনমানসে এমন একটি ধারণা তৈরি করার চেষ্টা হয়েছিল যে, হিরণ বিজেপির অন্দরে কোণঠাসা। প্রার্থী তালিকায় তাঁর নাম উঠে আসায় তৃণমূলের সেই প্রচার এখন বুমেরাং হয়ে তাদের দিকেই ফিরেছে। খড়গপুর সদর আসনটি দিলীপ ঘোষের জন্য ছেড়ে দেওয়ার প্রয়োজন হলেও, হিরণকে বসিয়ে না রেখে শ্যামপুরের মত গুরুত্বপূর্ণ আসনে পাঠানো হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, বিজেপি হিরণকে কেবল একজন অভিনেতা নয়, বরং একজন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক মুখ হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। বিজেপি যখন তারকা ও অভিজ্ঞদের সংমিশ্রণে প্রার্থী তালিকা পূর্ণ করছে, তখন তৃণমূলের অন্দরে টিকিট না পেয়ে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। পূর্ব বর্ধমান থেকে উত্তরবঙ্গ—একের পর এক কেন্দ্রে তৃণমূল কর্মীরাই প্রার্থী বদলের দাবিতে সরব হচ্ছেন। হিরণকে নিয়ে ট্রোল করতে গিয়ে তৃণমূল এখন নিজেদের ঘর সামলাতেই হিমশিম খাচ্ছে। বলা বাহুল্য, ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে ঘাটালে হারলেও হিরণের লড়াই ছিল দেখার মত। সেই লড়াকু মেজাজকেই দল স্বীকৃতি দিয়েছে। প্রার্থী হওয়ার পর হিরণ জানান, তিনি দলের অনুগত সৈনিক হিসেবে যে কোনও লড়াইয়ে প্রস্তুত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তৃণমূল যখন হিরণের রাজনৈতিক ‘মৃত্যুঘণ্টা’ বাজাতে ব্যস্ত ছিল, বিজেপি তখন তাঁকে নতুন রণাঙ্গনে সেনাপতি হিসেবে পাঠাল। এই ঘটনা কেবল হিরণের ব্যক্তিগত জয় নয়, বরং তৃণমূলের পরিকল্পিত অপপ্রচারের বিরুদ্ধে বিজেপির একটি বড় কৌশলগত জয়। শ্যামপুরের মাটিতে হিরণের এই নতুন লড়াই এখন শাসক শিবিরের কপালে ভাঁজ ফেলার জন্য যথেষ্ট।