প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- বহরমপুর তার নিজের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত। তাকে কেউ পরাজিত করতে পারে, এটা কেউ স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারেনি। কিন্তু ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনে সেই নিজের গড়েই পরাজিত হতে হয়েছে কংগ্রেসের রবিনহুড বলে পরিচিত অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে। যেখানে জয়লাভ করেছে ঘাসফুল। তবে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় খাতা খুলতে সেই রবিনহুডের ওপরেই ভরসা রাখতে চলেছে কংগ্রেস নেতৃত্ব। যেখানে বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হতে পারে অধীর চৌধুরীকে বলেই খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি এখানে প্রার্থী হলেও, বিজেপির গেরুয়া ঝড় কি তিনি আটকে দিতে পারবেন, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।
২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে যে মূল লড়াই তৃণমূলের সঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির হচ্ছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে বেশ কিছু জায়গা রয়েছে, যেখানে কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি। যার মধ্যে অন্যতম মালদহ এবং মুর্শিদাবাদ জেলা। মুর্শিদাবাদ জেলা অধীর রঞ্জন চৌধুরীর খাসতালুক। তিনি কোনোদিনও নির্বাচনে পরাজিত হননি। কিন্তু ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনে তাকে পরাজয় স্বীকার করে নিতে হয়েছে। তবে এবার সেই গ্লানি ভুলে তৃণমূলকে চাপে রাখতেই কি বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্রে আবার অধীর চৌধুরীকে প্রার্থী করতে চলেছে কংগ্রেস? যদি এই কেন্দ্রে অধীরবাবু প্রার্থী হন, তাহলে কি তিনি লোকসভার পরাজয়ের গ্লানিকে দূর করে বিধানসভায় জিততে পারবেন? নাকি এখানে বিজেপির পক্ষ থেকে যাকে প্রার্থী করা হয়েছে, গেরুয়া ঝড়ে সেই প্রার্থীর কাছে কুপোকাত হতে হবে অধীরবাবুকে?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অধীর চৌধুরী লোকসভায় যে পরাজয় স্বীকার করেছেন, তাকে ভুলতে তিনি এবার সব রকম চেষ্টা করবেন জয়লাভ করার। তবে চিন্তার বিষয়, বিজেপির উত্থান। যেভাবে বিজেপি গোটা রাজ্যজুড়ে ঝড় তুলতে শুরু করেছে, তাতে মুর্শিদাবাদ জেলায় তারা ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। আর তা যদি হয়, তাহলে তৃণমূলের কপালে যে বড় দুর্ভোগ অপেক্ষা করছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সেক্ষেত্রে বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্রে অধীর চৌধুরী লড়াই করলে তৃণমূল নয়, বরঞ্চ বিজেপির সঙ্গেই মূল লড়াই কংগ্রেস এবং অধীর চৌধুরীর হতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে শেষ পর্যন্ত অধীরবাবু যদি প্রার্থী হন, তাহলে বহরমপুরে কার পাল্লা ভারী হয় এবং কে এই কেন্দ্র থেকে জিতে রাজ্য বিধানসভায় যান, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।