প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বিলাসবহুল সুইমিং পুল, চোখ ধাঁধানো রিসর্ট, আর ক্ষমতার দম্ভে বিরোধীদের উদ্দেশ্যে হুঙ্কার— সব যেন এক ঝটকায় অতীত! এবার গ্রেফতারির চরম আতঙ্ক গ্রাস করল দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরের হেভিওয়েট তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলকে। পুলিশি তৎপরতা আর আইনি ফাঁস চারদিক থেকে চেপে বসতেই আর কোনও উপায় না দেখে সোজা কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) শরণাপন্ন হলেন এই তৃণমূল নেতা। পৈলানের প্রাসাদোপম বাড়ি ছেড়ে আপাতত পলাতক বিধায়ক রক্ষাকবচ চেয়ে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে জরুরি মামলা দায়েরের অনুমতি চেয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, একদিকে দলের অন্দরে কোণঠাসা, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলার সাঁড়াশি চাপ— সব মিলিয়ে বিষ্ণুপুরের এই ‘বেতাজ বাদশা’র সাম্রাজ্য এখন তাসের ঘরের মতো ভাঙতে শুরু করেছে।
গত ১৪ মে বিষ্ণুপুরের পৈলানে দিলীপ মণ্ডলের বিলাসবহুল রিসর্ট-বাড়িতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী যৌথ হানা দেওয়ার পর থেকেই তিনি বেপাত্তা। সূত্রের খবর, পুলিশি ঘেরাটোপ থেকে বাঁচতে এতদিন আত্মগোপন করে থাকার পর, এবার আইনি ঢাল পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন তিনি। এফআইআর (FIR) খারিজের আর্জি নিয়ে তাঁর আইনজীবীরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। এই মামলার জল এতটাই গড়িয়েছে যে, রাজ্য পুলিশের টাস্ক ফোর্স এবং ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশ ইতিমধ্যেই বিধায়কের ছেলে অর্ঘ্য মণ্ডলকে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগে গারদে পুরেছে। ছেলের এই পরিণতি দেখার পর স্বভাবতই বিধায়কের রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
বিধানসভা ভোটের পর বিরোধীদের চামড়া গুটিয়ে নেওয়ার প্রকাশ্য হুমকি দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিলেন এই বিধায়ক। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখার যে চেনা ‘তৃণমূলী সংস্কৃতি’, দিলীপ মণ্ডল তারই অন্যতম উদাহরণ। কিন্তু আইন যখন নিজের গতিতে চলতে শুরু করেছে, তখন সেই দম্ভ কর্পূরের মতো উড়ে গিয়েছে। তল্লাশি অভিযানের সময় পৈলানে দিলীপ মণ্ডলের যে রাজকীয় জীবনযাত্রার কোলাজ সামনে এসেছে, তা দেখে চোখ কপালে উঠেছে সাধারণ মানুষের। একজন জনপ্রতিনিধির কীভাবে সুইমিং পুল ও রিসর্ট সম্বলিত এত বিপুল সম্পত্তি হতে পারে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, কাটমানি এবং দুর্নীতির টাকায় সাধারণ মানুষের রক্ত চুষে এই প্রাসাদ গড়া হয়েছে। আর আজ যখন হিসাব দেওয়ার সময় এসেছে, তখন আইনের হাত থেকে বাঁচতে কোর্টের দরজায় দরজায় ঘুরতে হচ্ছে এই নেতাকে।
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য মামলা দায়েরের অনুমতি দিলেও, আদালত শেষ পর্যন্ত এই ‘পলাতক’ বিধায়ককে কোনও অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তি দেয় নাকি পুলিশের হাতে তুলে দেয়, সেটাই এখন দেখার। তবে বিষ্ণুপুরের সাধারণ মানুষ কিন্তু স্পষ্ট বলছেন— “আইনের হাত অনেক লম্বা, পাপের ঘড়া পূর্ণ হলে পার পাওয়া কঠিন!”