প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর এবার বিধানসভার অন্দরেই এক নজিরবিহীন নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি করল প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে ক্ষমতা হারিয়ে বিরোধী বেঞ্চে বসা জোড়াফুল শিবিরের বিধায়করা শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬ তারিখে বিধানসভার মেঝেতে বসেই অবস্থান বিক্ষোভে শামিল হলেন। ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু— প্রস্তাবিত বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের জন্য নির্দিষ্ট ঘরের বরাদ্দ এবং তার চাবি হস্তান্তর না হওয়া।

দলীয় সূত্রের খবর, প্রস্তাবিত বিরোধী দলনেতার ঘরের তালা খোলার জন্য তৃণমূলের পক্ষ থেকে দুপুর ১২টা থেকে মাত্র ১ ঘণ্টার একটি ডেডলাইন বা সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরেও ঘরের দরজা না খোলায়, বিধানসভার করিডোর ও মেঝের ওপর বসেই ধর্না শুরু করে দেন তৃণমূলের একাংশ বিধায়ক। এই নজিরবিহীন বিক্ষোভে অংশ নেন খোদ শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, বিধানসভার প্রাক্তন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, বিধায়ক পুলক রায় ও অরূপ রায় সহ ১৭-১৮ জন বিধায়ক। তবে রাজনৈতিক মহলের নজর কেড়েছে অন্য একটি বিষয়। তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে মাত্র এক-চতুর্থাংশ বিধায়ককে এই দিনের বিক্ষোভে সক্রিয় দেখা গেছে, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক জলঘোলা শুরু হয়েছে।

বিধানসভা সচিবালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষয়টি কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, বরং সম্পূর্ণ প্রশাসনিক ও আইনি জট। প্রথম দফায় তৃণমূলের পক্ষ থেকে যে চিঠি দেওয়া হয়েছিল, তাতে প্রস্তাবিত বিরোধী দলনেতার পক্ষে কতজন বিধায়কের সম্মতি বা স্বাক্ষর রয়েছে, তা স্পষ্ট ছিল না। সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতির জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক বিধায়কের লিখিত সমর্থন আবশ্যিক। পরবর্তীতে এই জটিলতা কাটাতে কালীঘাটে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জরুরি বৈঠকের পর, আজ ৭০ জন বিধায়কের স্বাক্ষর সম্বলিত একটি নতুন রেজোলিউশন বা প্রস্তাবপত্র বিধানসভার সচিবের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই ঘরের তালা বন্ধ থাকাকে সামনে রেখে আসলে তৃণমূল তাদের দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং সাম্প্রতিক পুরসভাগুলির গণ-ইস্তফা থেকে জনগণের নজর ঘোরাতে চাইছে। উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়া ও হালিশহর পুরসভায় যেভাবে একের পর এক তৃণমূল কাউন্সিলর গণ-ইস্তফা দিয়ে চলেছেন, এবং দলের প্রথম সারির বিধায়কদের একটা বড় অংশ যেভাবে প্রথম দফার বিক্ষোভ কর্মসূচিগুলি এড়িয়ে গিয়েছেন, তা ঢাকতেই এখন ‘হাউস’-এর ভেতর এই ধরণের নাটকীয় আবেগের আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে। যদিও বিক্ষোভকারী তৃণমূল নেতাদের দাবি, সচিবালয় ইচ্ছে করে বিরোধী দলনেতার সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করছে। প্রাক্তন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভা সচিবের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে বিজেপির পরিষদীয় দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নিয়ম মেনে সঠিক নথিপত্র পেশ করলেই স্পিকার ও সচিবালয় নিয়মমাফিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। আইন বা সংসদীয় রীতিনীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বিধানসভার ভেতরে এহেন ধর্না-রাজনীতি আসলে পরাজয়ের হতাশা ছাড়া আর কিছুই নয়।