প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-তাসের ঘরের মতোই কি ভেঙে পড়ছে তৃণমূলের অহংকার? ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার মানুষ যে রায় দিয়েছেন, তার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার দিল্লির বুকে চরম ধাক্কা খেল ঘাসফুল শিবির। মাত্র চার দিনের ব্যবধানে রাজ্যসভায় পরপর তিন সাংসদের পদত্যাগে রীতিমতো কোণঠাসা শীর্ষ নেতৃত্ব। সুখেন্দুশেখর রায় ও সুস্মিতা দেবের পর এবার ইস্তফা দিলেন প্রকাশচিক বরাইক। মাত্র ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে তিন-তিনজন হেভিওয়েট সাংসদ পদত্যাগ করায় দিল্লির অলিন্দে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি. পি. রাধাকৃষ্ণনের কাছে নিজের ইস্তফা পত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন আলিপুরদুয়ারের এই বিদায়ী সাংসদ। এর ফলে এক লপ্তে উচ্চকক্ষে তৃণমূলের শক্তি ১৩ থেকে কমে দাঁড়াল মাত্র ১০-এ!
রাজনৈতিক মহলের বড় অংশের প্রশ্ন, ভোটের ফল বেরোতেই এই ধস কেন? বিরোধীদের তীব্র খোঁচা, তৃণমূল কোনো গণতান্ত্রিক দল নয়, বরং এটি নির্দিষ্ট একটি পরিবারের ‘প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি’র মতো একনায়কতন্ত্রে চলে। বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর এই পরিকাঠামোয় এখন চূড়ান্ত সংকট তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, দলের অন্দরে যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ধিকধিক করে জ্বলছিল, এই পদত্যাগ তারই জলজ্যান্ত প্রমাণ। এমনকি লোকসভাতেও দলের একটা বড় অংশ সাংসদ এখন নেতৃত্বের এই একাধিপত্যের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী তৈরির সলতে পাকাচ্ছেন বলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
প্রকাশচিক বরাইক সাধারণ কোনো নাম নন। তিনি যুবরাজ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বৃত্তের লোক এবং উত্তরবঙ্গের চা বলয়ের বড় আদিবাসী মুখ। লোকসভা এবং বিধানসভা— দুটিতেই উত্তরবঙ্গের মানুষ তৃণমূলের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এবার খোদ নেতৃত্বের বিশ্বস্ত প্রকাশের এই আকস্মিক ইস্তফা প্রমাণ করছে যে, দলের শীর্ষস্তরের ওপর থেকে খোদ নিজেদের লোকেদেরই আস্থা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। সুখেন্দুশেখর ও সুস্মিতা দেব শুধু সাংসদ পদই ছাড়েননি, দল থেকেও দূরত্ব বাড়িয়েছেন। প্রকাশ চিকও কি এবার গেরুয়া শিবিরে নাম লেখাতে চলেছেন? জল্পনা এখন তুঙ্গে। দিল্লির মসনদ উল্টে দেওয়ার হুঙ্কার দেওয়া নেতৃত্ব এখন নিজেদের ঘর সামলাতেই হিমশিম খাচ্ছে। পিসি-ভাইপোর অহংকারের বেলুন কি এভাবেই ফুটো হতে থাকবে? উত্তর দেবে সময়।