প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নতুন বিজেপি সরকার গঠিত হওয়ার পর থেকেই দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে আইনের ফাঁস শক্ত হতে শুরু করেছে । এবার পুলিশের জালে ধরা পড়লেন কলকাতা পৌরনিগমের ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের ‘প্রভাবশালী’ তথা সদ্যপ্রাক্তন বরো চেয়ারম্যান সুশান্ত ঘোষ। দীর্ঘ টালবাহানা আর চোর-পুলিশ খেলার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ওড়িশার পুরী থেকে তাঁকে পাকড়াও করেছে পুলিশ। ১৭ জুন ২০২৬, বুধবার ওড়িশার সমুদ্রসৈকত থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। একদিকে গরিব হকারদের পুনর্বাসনের নামে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির মারাত্মক অভিযোগ, আর অন্যদিকে ভিনরাজ্যে গিয়ে গা ঢাকা দেওয়া—এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। রাজ্যে ডবল ইঞ্জিনের সরকার আসার পর এবং মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছিল যে, কোনো ধরনের গুন্ডাগির্দি বা তোলাবাজি বরদাস্ত করা হবে না। নতুন সরকারের এই কড়া নীতির জেরেই পুলিশি তৎপরতা দেখেই ওড়িশায় পালিয়ে গিয়েছিলেন এই তৃণমূলী কাউন্সিলর, কিন্তু শেষরক্ষা হলো না।
মামলার নথিপত্র এবং পুলিশ সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই দুর্নীতির গভীরতা অত্যন্ত মারাত্মক। কসবার রুবি মোড় ও আনন্দপুর সংলগ্ন এলাকায় ফুটপাথের গরিব হকারদের দোকান পাইয়ে দেওয়ার নাম করে এই সুশান্ত ঘোষ এবং তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রায় ৩ কোটি টাকা বেআইনিভাবে আদায় করার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ১৩০ জন অসহায় হকার সর্বস্ব হারিয়ে আনন্দপুর থানায় এই নেতার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। শুধু তাই নয়, কলকাতা পুরসভার জাল লোগো এবং ভুয়ো নথিপত্র ব্যবহার করে ৩.৫ লক্ষ টাকা জালিয়াতির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আরেকটি নতুন এফআইআর (FIR)-ও দায়ের হয়েছে। মে মাসের শেষের দিকে যখন মামলার তদন্ত শুরু হয়, তখন থেকেই পরিবারসহ বেপাত্তা হয়ে যান এই অভিযুক্ত কাউন্সিলর। জুন মাসের শুরুতে ওড়িশা সীমান্তের বেলদা এলাকায় পুলিশ ধাওয়া করলে তিনি নিজের বিলাসবহুল গাড়ি ও পরিবারকে ফেলে রেখেই চম্পট দেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়। সেই সময় তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িচালক সুজিত চৌধুরীকে পুলিশ প্রথম গ্রেফতার করেছিল। নিজের ড্রাইভারকে সামনে রেখে নিজে পালিয়েও কিন্তু আইনের হাত থেকে রেহাই পেলেন না সুশান্ত ঘোষ ।
সুশান্ত ঘোষের এই কোটি কোটি টাকার তোলাবাজি চক্রের অন্যান্য প্রধান সহযোগীরাও এখন পুলিশের জালে। কিছুদিন আগেই কলকাতা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে সুশান্তের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং এই চক্রের অন্যতম পাণ্ডা সুজিত কুমার পাল ওরফে ‘বাচ্চন’-কে। অভিযোগ, এই বচ্চন মাত্র দু’বছরে সাধারণ অবস্থা থেকে কোটি কোটি টাকার ফ্ল্যাট, জমি ও দামি সম্পত্তির মালিক বনে গিয়েছিল। আনন্দপুর থানা থেকে যখন বচ্চনকে বের করা হচ্ছিল, তখন সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এতটাই ছিল যে তাঁর মুখে পচা ডিম ছুড়ে মারা হয়। আজ সুশান্ত ঘোষের গ্রেফতারি সেই জনরোষেরই বড় জয় বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
তৃণমূলের দলীয় ব্যবস্থার অন্দরে কাটমানি, তোলাবাজি আর জালিয়াতির শিকড় কতটা গভীরে ছিল, সুশান্ত ঘোষের বিরুদ্ধে ওঠা এই মারাত্মক অভিযোগগুলো তার বড় প্রমাণ। ক্ষমতার চাকা ঘুরতেই বরো চেয়ারম্যানের পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে সাধু সাজার চেষ্টা করলেও, শেষ পর্যন্ত ওড়িশার সমুদ্রসৈকত থেকে তাঁকে টানতে টানতে নিয়ে আসা হলো। এই চক্রের মূল হোতাদের কঠিন শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে, যাতে আর কোনো সিন্ডিকেট বাজ সাধারণ মানুষের রুটি-রুজিতে লাথি মারার সাহস না পায়. নতুন বিজেপি সরকারের অধীনে বাংলার মানুষ এখন প্রকৃত অর্থেই সুশাসনের আশা রাখছে।