প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-প্রবীণ আইনজীবী তথা শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ৫৬ লক্ষ টাকা সাইবার জালিয়াতির ঘটনায় বড়সড় সাফল্য পেল কলকাতা পুলিশ। ঘটনার দীর্ঘ সাত মাস পর তদন্তে নেমে মূল অভিযুক্তকে অসম থেকে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখা। ধৃতের নাম মোকুলেশর রেজা। অসমের রাঙাপানি এলাকা থেকে তাকে জালে তুলেছে লালবাজারের গোয়েন্দারা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক থাকাকালীন স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (SBI) বিধানসভা উপ-শাখায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল। বর্তমানে এই উপ-শাখাটি এসবিআই হাইকোর্ট শাখার অধীনস্থ। দীর্ঘদিন ধরে কোনো লেনদেন না হওয়ায় অ্যাকাউন্টটি নিষ্ক্রিয় বা ‘ডরম্যান্ট’ অবস্থায় পড়েছিল।তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, অভিযুক্ত মোকুলেশর রেজা সুপরিকল্পিতভাবে ভুয়ো প্যান কার্ড এবং আধার কার্ড তৈরি করে, যেখানে সাংসদের ছবির ওপর অন্য ছবি সুপারইম্পোজ করা হয়েছিল। এরপর সে নিজে আইনজীবী সেজে কলকাতার ওই ব্যাঙ্ক শাখায় প্রবেশ করে এবং জাল কেওয়াইসি (KYC) নথির মাধ্যমে অ্যাকাউন্টটি পুনরায় সচল করে তোলে। ব্যাঙ্কের কর্মীদের নজর এড়িয়ে সে কল্যাণবাবুর অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত থাকা পুরনো মোবাইল নম্বরটি বদলে নিজের একটি নম্বর লিঙ্ক করে দেয়।
মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করার সাথে সাথেই ওই অ্যাকাউন্টের ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং এবং ওটিপি (OTP)-র সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চলে যায় প্রতারকের হাতে। এরপর ধাপে ধাপে অ্যাকাউন্ট থেকে মোট ৫৬ লক্ষ ৩৯ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়। ব্যাঙ্কের তরফ থেকে যখন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই অস্বাভাবিক লেনদেনের বিষয়ে জানানো হয়, তখন তিনি হতবাক হয়ে যান। তড়িঘড়ি ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে এবং সাংসদের তরফে লালবাজারের সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, চুরি করা টাকার হদিস যাতে সহজে না পাওয়া যায় এবং ট্র্যাকিং এড়ানো যায়, তার জন্য অভিযুক্ত মোকুলেশর রেজা বিপুল পরিমাণ টাকা দিয়ে সোনা কিনে ফেলেছিল।
অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই কলকাতা পুলিশের সাইবার শাখার একটি বিশেষ দল আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে এই চক্রের খোঁজে তল্লাশি শুরু করে। অবশেষে প্রায় ৭ মাস ধরে ক্রমাগত মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ও ব্যাঙ্কিং ট্রেল খতিয়ে দেখে অসমের রাঙাপানি থেকে মূল অভিযুক্ত মোকুলেশর রেজাকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতকে ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়েছে এবং আজই তাকে আদালতে পেশ করা হবে। এই ঘটনার পিছনে ব্যাঙ্কের কোনো অভ্যন্তরীণ কর্মীর গাফিলতি বা যোগসাজশ রয়েছে কিনা, এবং এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা জানতে ধৃতকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় কলকাতা পুলিশ। ঘটনার তদন্ত এখনও জারি রয়েছে।