প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-অবসান হলো দীর্ঘদিনের দাপটের। অবশেষে কোটি টাকার তোলাবাজি ও আর্থিক তছরুপের পুরনো মামলায় আইনের জালে জড়ালেন উত্তরবঙ্গের একদা হেভিওয়েট তথা প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহ। আজ বুধবার (১৭ জুন ২০২৬) কলকাতার ফুলবাগানের বাসস্থান থেকে তাঁকে গ্রেফতার করেছে কোচবিহার জেলা পুলিশ। বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয় এবং রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই মূলত গা ঢাকা দিয়ে থাকার চেষ্টা করছিলেন দিনহাটার এই প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে আজ পুলিশ এই সফল অভিযান চালায়। ধৃত নেতাকে বর্তমানে স্থানীয় ফুলবাগান থানায় রাখা হয়েছে এবং ট্রানজিট রিমান্ডে তাঁকে উত্তরবঙ্গে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। উদয়ন গুহর গ্রেফতারির খবর ছড়িয়ে পড়তেই উত্তরবঙ্গের বিশেষ করে দিনহাটা ও ভেটাগুড়ির সাধারণ মানুষ এবং বর্তমান শাসক দল বিজেপির কর্মীদের মধ্যে আবির খেলা ও মিষ্টি মুখ করার ধুম লেগে গেছে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, “যেই হাত দিয়ে তিনি বিরোধী কর্মীদের ওপর লাগাতার অত্যাচার চালিয়েছিলেন, সাধারণ মানুষের আঙুল ভেঙে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন, আজ সেই হাতেই আইন হাতকড়া পড়িয়েছে। বাংলায় অবশেষে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত থাকায় সাধারণ মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জাতীয়তাবাদী মহল মনে করাচ্ছে, উদয়ন গুহর এই গ্রেফতারি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। তাঁর বিরুদ্ধে জমা হওয়া পাহাড়প্রমাণ অভিযোগেরই এটি আইনি পরিণতি। পুলিশ সূত্রে খবর, দিনহাটা থানায় দায়ের হওয়া একটি বড়সড় তোলাবাজি এবং আর্থিক তছরুপের মামলায় কোচবিহার জেলা পুলিশ এই পদক্ষেপ নিয়েছে। এছাড়াও তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগের খতিয়ান রয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসায় দিনহাটা জুড়ে বিজেপি কর্মীদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর, খুন এবং অত্যাচারের নেপথ্যে মূল উস্কানিদাতা ও পরিকল্পনাকারী হিসেবে বারবার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের (NHRC) রিপোর্টে এই তৃণমূল নেতার নাম জড়িয়েছিল।বিএসএফ-এর (BSF) এক্তিয়ার বৃদ্ধির বিরোধিতা করতে গিয়েভারতীয় সুরক্ষাবাহিনীর জওয়ানদের বিরুদ্ধে কুরুচিকর মন্তব্য ও জঘন্য কুৎসা রটিয়েছিলেন এই উদয়ন গুহ। দেশের বীর জওয়ানদের অপমান করার পর থেকেই দেশপ্রেমী মানুষের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি।আরজি কর কাণ্ডের প্রেক্ষিতে যখন সাধারণ মানুষ ও মহিলারা বিচার চেয়ে রাস্তায় নেমেছিলেন, তখন উদয়ন গুহ প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর দিকে আঙুল তুললে আঙুল ভেঙে দেওয়া হবে”। মহিলারা রাতে রাস্তা দখল করলে তাঁদের স্বামীদের পিটিয়ে দেওয়ার প্রচ্ছন্ন উস্কানি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে।

বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের স্পষ্ট বক্তব্য, বাংলায় দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের রাজত্ব শেষ হয়ে গেছে। নতুন সরকারের অধীনে পুলিশ ও প্রশাসন কোনো রাজনৈতিক রঙ না দেখে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে, যার ফলেই এতদিন আড়ালে থাকা অভিযুক্তরা একে একে আইনের মুখোমুখি হচ্ছে। আইন তার নিজের পথেই চলছে এবং সমস্ত দুর্নীতির উপযুক্ত বিচার না হওয়া পর্যন্ত এই শুদ্ধিকরণ চলবে।

অনভিপ্রেত উত্তেজনা এড়াতে কোচবিহার ও দিনহাটা জুড়ে কড়া পুলিশি নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে। উদয়ন গুহকে উত্তরবঙ্গে আনার পর তাঁকে আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ।