প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
তিনি রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। আর প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে তার রাজ্যের বুকে যদি কোনো অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে, যদি আইনশৃঙ্খলা হাতে তুলে নেওয়ার মত কোনো ঘটনা ঘটে, তাহলে তিনি তার পুলিশকে নির্দেশ দেবেন সেই ঘটনাকে আয়ত্তে আনার জন্য। কিন্তু সেই রকম কিছুর বদলে বেলডাঙ্গা যখন সকাল থেকে উত্তপ্ত, যখন সেখানে রেললাইন অবরোধ করা হচ্ছে, যখন ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন কিছু মানুষ, যখন আইন হাতে তুলে নেওয়া হচ্ছে, তখন সেই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিকেই কি ঘুরিয়ে প্রশ্রয় দিলেন এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী? বিরোধীদের পক্ষ থেকে বর্তমানে এই প্রশ্নটাই করা হচ্ছে। কারণ আজ বেলডাঙ্গার উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ে যখন বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছেন, ঠিক তখনই গোটা ঘটনা নিয়ে এক অন্যরকম মন্তব্য করতে দেখা গেল রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানকে।

এই রাজ্যের বেশ কিছু এলাকা বর্তমানে উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে। গত বুধবার ফারাক্কায় বিডিও অফিসে ঢুকে এসআইআরের শুনানির প্রতিবাদ করে কাগজ ছুঁড়ে ফেলেছিলেন তৃণমূল বিধায়ক এবং তার অনুগামীরা। গতকাল চাকুলিয়া সমানভাবে উত্তপ্ত হয়। আর এর মাঝেই ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনাকে হাতিয়ার করে আজ সকাল থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বেলডাঙ্গা। যেখানে মরদেহ নিয়ে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান কিছু মানুষ। এমনকি ট্রেন লাইন পর্যন্ত অবরোধ করে দেওয়া হয়। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে। আর এসবের মধ্যেই গোটা বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী যে মন্তব্য করলেন, তা নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বিরোধীরা।

এদিন বেলডাঙার পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। আর সেই ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “বেলডাঙায় কাদের প্ররোচনা, সবাই জানে। রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য উস্কানি দেওয়া হচ্ছে। মুসলমানদের ক্ষোভ বৈধ। পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর অত্যাচার নিয়ে এফআইআর করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার করা হবে। ক্ষোভ স্বতঃস্ফূর্ত। শুনানির জন্য ডাকছে। পরিযায়ীদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে। নেপথ্যে কেন্দ্রীয় এজেন্সি রয়েছে।” বিরোধীদের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। তিনি যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাকে ঘুরিয়ে সমর্থন করে এই ক্ষোভকে বৈধ বলে কি তাদেরকেই প্রশ্রয় দিলেন না? তার তো উচিত ছিলো, নিজের প্রশাসনকে দিয়ে গোটা ঘটনাকে কন্ট্রোল করা। কিন্তু তার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি যে সমস্ত মন্তব্য করলেন, তাতে তো তিনি যে বিধ্বংসী আন্দোলন সেখানে শুরু হয়েছে, তাতে প্রশ্রয় দিয়ে পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করানোর কৌশল নিলেন বলেই দাবি করছে বিরোধীরা।