প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-উত্তরপ্রদেশের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শহর বারাণসীর (কাশী) বুকে এবার পাকাপাকিভাবে আস্ত একটি ‘পশ্চিমবঙ্গ ভবন’ ও বাঙালি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ শুরু হয়েছে। প্রতি বছর লাখ লাখ বাঙালি পর্যটক ও পুণ্যার্থী কাশীতে ভিড় জমান। তাঁদের দীর্ঘদিনের এই দাবি পূরণে এবার সরাসরি ময়দানে নেমেছে রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। সূত্রের খবর, এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত করতে ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর লোকসভা কেন্দ্র বারাণসীতে এক উচ্চপর্যায়ের যৌথ জমি পরিদর্শন পর্ব সম্পন্ন হয়েছে। এই বিশেষ প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনসল এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পর্যটন দফতরের একাধিক পদস্থ আধিকারিক। সঙ্গে ছিলেন বারাণসী জেলা প্রশাসনের শীর্ষ প্রতিনিধিরাও।

রাজ্যসভার সাংসদ তথা বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বারাণসীর আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনকে আরও নিবিড় করতে তিনি নিজে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে এই সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। এই প্রস্তাবিত প্রকল্পের মূল আকর্ষণগুলো হলো: বারাণসীতে আগত বাঙালি পর্যটকদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন পশ্চিমবঙ্গ ভবন (Paschimbanga Bhawan)। বাংলার শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে একটি অত্যাধুনিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (Cultural Centre)।বারাণসীর বিখ্যাত ‘বাঙালিটোলা’ এলাকায় কোচবিহার দেবোত্তর ট্রাস্টের একটি বিশাল জমি রয়েছে। প্রায় এক শতাব্দী প্রাচীন এই জমিতে রয়েছে কোচবিহারের মহারাজা হরেন্দ্র নারায়ণ ভূপ বাহাদুরের তৈরি এক ঐতিহ্যবাহী কালী মন্দির। শমীক ভট্টাচার্য নিজেই এই মন্দির চত্বরটি ঘুরে দেখেন এবং জানান, এই ঐতিহাসিক কালী মন্দিরসহ আশেপাশের আরও কয়েকটি মন্দিরের দ্রুত সংস্কার, সংরক্ষণ ও সৌন্দর্যকরণের দায়িত্ব নেওয়া হচ্ছে। প্রস্তাবিত পশ্চিমবঙ্গ ভবনটিও এই ট্রাস্টের জমির চত্বরেই গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

এই মহতী উদ্যোগকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি বিগত তৃণমূল সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছে বিজেপি শিবির। দলের শীর্ষ নেতাদের একাংশের অভিযোগ, এই কাজ বিগত তৃণমূল সরকারও অনায়াসে করতে পারত, কিন্তু তাদের অনীহা ও সংকীর্ণ রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তা সম্ভব হয়নি। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, বিগত সরকার রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে ভারতের অন্যান্য রাজ্য এবং হিন্দিভাষী মানুষদের বারবার ‘বহিরাগত’ বলে কটাক্ষ করেছে। এই সংকীর্ণ রাজনীতির কারণে প্রতিবেশী রাজ্যগুলোর সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক ও আত্মিক মেলবন্ধন ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বারাণসীর মত ভারতের অন্যতম প্রধান আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক পীঠস্থানে বাংলার গৌরবকে প্রতিষ্ঠা করার কোনো সদিচ্ছাই বিগত জমানার ছিল না বলে সরব হয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশও। তাঁদের মতে, দেশের বাকি অংশের থেকে বাংলাকে বিচ্ছিন্ন করার যে অপচেষ্টা বিগত দিনে হয়েছিল, তার ফলে কার্যত বাংলার সুপ্রাচীন সর্বজনীন সংস্কৃতিই মার খেয়েছিল।

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তা সার্বিকভাবে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের জন্য বিপুল উপযোগিতা নিয়ে আসবে। কাশীতে আগত সাধারণ বাঙালি পুণ্যার্থী ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো অত্যন্ত কম খরচে নিরাপদ এবং ঘরের পরিবেশে থাকার সুবর্ণ সুযোগ পাবেন। বারাণসীতে সারা বছর দেশ-বিদেশের লাখ লাখ পর্যটক আসেন। সেখানে বাংলার নিজস্ব সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে উঠলে বাংলার ঐতিহ্য, কুটির শিল্প এবং লোকসংস্কৃতি বিশ্বদরবারে এক নতুন পরিচিতি পাবে। শতবর্ষ প্রাচীন কোচবিহার দেবোত্তর ট্রাস্টের হেরিটেজ মন্দিরগুলির সংস্কার হলে তা সনাতন সংস্কৃতির অন্যতম বড় গৌরব হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকারের সঙ্গে পূর্ণ সমন্বয় রেখে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পর্যটন বিভাগ ইতিমধ্যেই এই মেগা প্রকল্পের ব্লু-প্রিন্ট নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করে দিয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্যের এই যৌথ প্রয়াসকে সাধুবাদ জানাচ্ছে সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ।