প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী তিনি। মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার পর প্রথম বিধানসভা অধিবেশনেই বিরোধী শিবিরের সাজানো রাজনৈতিক প্রচারের বেলুন এক ফুঁক দিয়ে ফুটো করে দিলেন বাংলার নয়া ‘জননেতা’ শুভেন্দু অধিকারী। বিগত কয়েকদিন ধরে ভোট-পরবর্তী হিংসার মনগড়া কান্নাকাটি জুড়ে যে তৃণমূল কংগ্রেস সস্তা সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা করছিল, আজ বিধানসভার পবিত্র মেঝেতে দাঁড়িয়ে শুভেন্দুর এক একখানা শব্দবাণে সেই সাজানো নাটক তাসখেলার ঘরের মতো ভেঙে পড়ল। বাংলায় আইনের শাসন কাকে বলে, প্রথম দিনেই তা বুক চিতিয়ে বুঝিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

এতদিন যারা বিরোধী কর্মীদের ওপর অকথ্য অত্যাচার চালিয়ে নিজেরা ‘ভিকটিম কার্ড’ খেলার চেষ্টা করছিল, তাদের মুখে চুনকালি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বাংলায় রাজনৈতিক রং নির্বিশেষে কোনও নির্দোষ নাগরিককে ঘরছাড়া থাকতে দেওয়া হবে না। যাঁদের বিরুদ্ধে কোনও হিংসাত্মক বা অপরাধমূলক কাজের রেকর্ড নেই, তাঁরা সসম্মানে নিজের ভিটেয় ফিরবেন। আর এই পুনর্বাসনের কাজটি কোনও রাজনৈতিক দল নয়, স্বয়ং রাজ্যের পুলিশ প্রশাসন বুকে আগলে রেখে তাঁদের বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আসবে। শুভেন্দুর এই রাজকীয় ও মানবিক সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের চোখে আজ বিশ্বস্ত অভিভাবকের প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠেছে। তবে মানবিকতার পাশাপাশি অপরাধ দমনে শুভেন্দু যে কতটা ‘লৌহপুরুষ’, তা প্রমাণ হলো তাঁর পরবর্তী হুঁশিয়ারিতে। তিনি স্পষ্ট আইনি ফাঁদ পেতে জানিয়ে দিয়েছেন, ঘরছাড়া সাজার নাটক করে কোনও তৃণমূলী দুষ্কৃতী পার পাবে না।

যদি কারও বিরুদ্ধে বিগত ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন বা পরবর্তী কোনও সময়ের ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনায় সুনির্দিষ্ট FIR বা আইনি অভিযোগ থাকে, তবে ঘরে ফেরার নাম করে ডেরায় পা দিলেই পুলিশ তাকে সটান কলার ধরে শ্রীঘরে পুরবে। অর্থাৎ, চোর-ডাকাত ও গুন্ডাদের জন্য শুভেন্দুর দরজায় কোনও ছাড় নেই।

রাজনৈতিক মহলের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর এই মাস্টারস্ট্রোক তৃণমূলের কোমর পুরোপুরি ভেঙে দিল। একদিকে কলকাতা হাইকোর্টের ঘরছাড়াদের ফেরানোর সাম্প্রতিক নির্দেশিকাকে অক্ষরে অক্ষরে সম্মান জানিয়ে তিনি নিজেকে আইনের রক্ষক হিসেবে তুলে ধরলেন, অন্যদিকে ঘরছাড়া সাজার আড়ালে লুকিয়ে থাকা তৃণমূলের ভোট-লুটেরা বাহিনী ও সমাজবিরোধীদের চিহ্নিত করে আইনি জালে পুরে ফেলার নিখুঁত ছক কষলেন। অপরাধীদের প্রতি তাঁর এই জিরো-টলারেন্স নীতি এবং বিরোধীদের রাজনৈতিক দ্বিচারিতাকে প্রকাশ্য মঞ্চে টেনে আনা প্রমাণ করে দিল—বাংলায় এবার আর কোনও সিন্ডিকেট বা তোষণের রাজনীতি চলবে না, রাজত্ব চলবে শুধুই নিয়ম আর ন্যায়ের।