প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-১৮ তম পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রথম অধিবেশনে যোগ দিতে আজ বুধবার সকালেই কড়া নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে বিধানসভা চত্বরে এসে পৌঁছায় নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়। কিন্তু গাড়ি থেকে নামার পর, বিধানসভার মূল ভবনের সিঁড়িতে পা রাখার ঠিক আগের মুহূর্তে হঠাত্ই এক অভাবনীয় কাণ্ড ঘটিয়ে বসলেন রাজ্যের নতুন প্রশাসনিক প্রধান। মুখ্যমন্ত্রীর এই আকস্মিক আচরণ দেখে মুহূর্তের জন্য থমকে যান সেখানে উপস্থিত নিরাপত্তারক্ষী থেকে শুরু করে তাবড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা।
প্রোটোকল মেনে বিধানসভার গেটে মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। কিন্তু গাড়ি থেকে নেমেই শুভেন্দু অধিকারী তাঁর পায়ের জুতো খুলে ফেলেন। সবাইকে অবাক করে দিয়ে সম্পূর্ণ খালি পায়ে তিনি বিধানসভার মূল ভবনের সিঁড়ির দিকে এগিয়ে যান। বিধানসভার প্রথম সিঁড়িতে পা রাখার আগেই হঠাত্ মাটিতে হাঁটু গেড়ে বসে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী। এর পর দু’হাত জোড় করে, মাথা ও কপাল একেবারে মাটির চৌকাঠে ঠেকিয়ে উপুড় বা সাষ্টাঙ্গ হয়ে প্রণাম করেন তিনি। গণতন্ত্রের এই পবিত্র মন্দিরে প্রবেশের আগে তাঁর এই আবেগঘন ভঙ্গি দেখে সেখানে উপস্থিত অনেকেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।
শুভেন্দু অধিকারীর এই আচরণ রাজনৈতিক মহলে এক তীব্র আলোড়ন তৈরি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আজকের এই ঘটনাটি ২০১৪ সালে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রথমবার সংসদ ভবনে প্রবেশের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে হুবহু মনে করিয়ে দিল। সেবার প্রধানমন্ত্রী মোদীও লোকসভার সিঁড়িতে কপাল ঠেকিয়ে প্রণাম করেছিলেন, আজ তিলোত্তমার মাটিতে সেই একই সনাতনী ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির নজির গড়লেন বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সচরাচর এমন দৃশ্য বাংলার মানুষ আগে কখনও দেখেনি। ফলে শুভেন্দুবাবুর এই জুতো খুলে বিধানসভার চৌকাঠকে প্রণাম করার ভিডিও এবং লাইভ ফুটেজ সংবাদমাধ্যমে সম্প্রচারিত হতেই তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়ে গেছে।
নেটপাড়ায় প্রশংসায় পঞ্চমুখ গেরুয়া সমর্থকেরা। এই বিশেষ আবেগঘন মুহূর্তের রেশ কাটিয়েই বিধানসভা চত্বরে নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে রাজ্য পুলিশের তরফ থেকে দেওয়া হয় বিশেষ ‘গার্ড অফ অনার’। এর পরই তিনি অ্যানেক্স ভবনের দিকে এগিয়ে যান নিজের ঐতিহাসিক শপথ গ্রহণের উদ্দেশ্যে।