প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ঘটে যাওয়া তরুণী চিকিৎসকের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুবিচারের দাবিতে এক অনমনীয় অবস্থান নিল রাজ্য সরকার। আগামী ৯ অগাস্ট (রবিবার) রাজ্যজুড়ে এক বিশেষ শোক ও স্মরণ কর্মসূচির অফিশিয়াল নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। শনিবার এই সংক্রান্ত একটি সুনির্দিষ্ট এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা বিশিষ্ট চিকিৎসক ডঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, ৯ অগাস্ট ঠিক সকাল ১১টা থেকে ১১টা ০২ মিনিট পর্যন্ত মোট ২ মিনিট রাজ্যের সমস্ত সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং সরকারি হাসপাতালে সম্পূর্ণ নীরবতা পালন করা হবে। এই নির্দিষ্ট সময়কালের জন্য হাসপাতালের জরুরি আপৎকালীন পরিষেবা চালু থাকলেও, বাকি সমস্ত প্রশাসনিক কাজ এবং সাধারণ পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হবে।
আরজি কর কাণ্ডের পর রাজ্যে বড়সড় রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটেছে। নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় সিসিটিভি নজরদারি এবং নারী নিরাপত্তা বৃদ্ধি নিয়ে একাধিক কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায় অত্যন্ত আবেগপূর্ণ অথচ দৃঢ় কণ্ঠে এই মেমোরিয়াল কর্মসূচির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, “আমাদের কাছে এই দিনটি না ভোলার দিন। কোনও দিন আমরা এই দিনটি ভুলে উঠতে পারব না। সমস্ত সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং হাসপাতালে সকাল ১১টা থেকে ১১টা ০২ মিনিট পর্যন্ত ২ মিনিট নীরবতা পালন করা হবে অভয়ার আত্মার শান্তি কামনার জন্য।” স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর এটি স্পষ্ট যে, এই স্মরণ কর্মসূচি কোনো রাজনৈতিক স্তরে সীমাবদ্ধ নয়। এটি সরকারি স্তরে ‘অভয়া’-র প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে একতাবদ্ধ হওয়ার একটি বড় প্রশাসনিক প্রয়াস।
নীরবতা পালনের পাশাপাশি এই হাইপ্রোফাইল মামলার গতিপ্রকৃতি এবং তদন্তের পরিধি নিয়ে এক অত্যন্ত কড়া অবস্থান স্পষ্ট করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। আরজি কর মামলার বর্তমান পরিস্থিতি এবং পূর্বতন জমানার কোনো প্রভাবশালী প্রশাসনিক ব্যক্তি বা চিকিৎসকদের রেহাই দেওয়া হবে কি না—এই প্রশ্নের জবাবে ডঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায় অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত কিন্তু জোরালো ভাষায় সাফ জানিয়ে দেন, “সকলকেই তদন্ত করা হবে।” তাঁর এই একটি লাইনের সতর্কবার্তায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই মামলার মূল অপরাধীদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি প্রমাণ লোপাটের চেষ্টার সাথে যুক্ত থাকা প্রতিটি রাঘববোয়ালকে আইনের আওতায় আনতে বদ্ধপরিকর বর্তমান প্রশাসন। দোষী ব্যক্তি যত বড় প্রভাবশালীই হোক না কেন, নতুন সরকারের তদন্তের হাত থেকে কেউ রেহাই পাবে না।